চরম শাস্তি

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ১৯:৩৪

বাসে অফিস যাচ্ছি। প্রচণ্ড মন খারাপ। মন খারাপের কারণ আমার সদ্য বিয়ে করা বউ। সকালে ঘুম থেকে উঠে লামিয়াকে বললাম, ‘আজ সকালটা খুব সুন্দর। পাখিরা গানের সুরে বলছে আজ অফিসে যেয়ো না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ অফিসে যাব না। সারাদিন তোমার সাথে গল্প করব।’

লামিয়া বলল, ‘ওকে। আগে নাস্তা কর।’ নাস্তা শেষে লামিয়া জানাল লবণ শেষ। দোকান থেকে লবণ নিয়ে আসতে হবে। যেই বাড়ি থেকে বের হলাম কাপড়-চোপড় আর ব্যাগপত্র বের করে দিয়ে লামিয়া বলল, ‘গুড বাই। এবার অফিসে যাও।’ বলেই দরজাটা বন্ধ করে দিল।

আমার সামনের সিটে বসে আছে এক মহিলা, সঙ্গে ৪-৫ বছরের এক বাচ্চা। মহিলা তার স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছে। সম্ভবত তার স্বামী দেশের বাইরে থাকে। মহিলার জোরে জোরে কথা বলা দেখে আমি প্রচণ্ড বিরক্তবোধ করছি।

কথা বলার এক পর্যায়ে মহিলাটি তার বাচ্চার কানে ফোনটা দিয়ে বলল, ‘তোমার বাবার সাথে কথা বল।’

বাচ্চাটি বলল, ‘বাপ্পি কেমন আছ?’

মহিলাটি সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার গালে টাস টাস দুটো চড় লাগিয়ে দিয়ে বলল, ‘তোমাকে না বলেছি বাপ্পি ডাকবে না।’

বাচ্চাটি আবার বলল, মহিলাটি আবার চড় লাগিয়ে দিল।

আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। মহিলাটিকে বললাম, ‘আপনার সমস্যা কী? অনেক বাচ্চারা বাবাকে ভালোবেসে ডেডি, পাপ্পা অনেক কিছুই তো ডাকে। আপনার ছেলে নাহয় বাপ্পি ডেকেছে। তাই বলে আপনি এই ছোট বাচ্চাটার গায়ে হাত তুলবেন?’

মহিলাটি বলল, ‘আসলে ভাইয়া ছেলের বাবার নামই হলো বাপ্পি।’             কক্সবাজার