একদা মিতুর আব্বার মনোনয়ন পাওয়ার জন্য হাজারো চেষ্টা করেছিলাম। সারা দিনরাত যতবারই সামনে পড়তেন ততবারই সালাম দিতাম। কাকা কাকা বলে মুখে ফেনা তুলতাম। বাজারের বস্তা কাঁধে করে নিয়ে ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসতাম। ওঁত পেতে থাকতাম হবু শ্বশুরের কখন কী দরকার পড়ে! কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাকু তার মেয়েকে তুলে দেওয়ার জন্য এক বিদেশ ফেরত বয়স্ক মানুষকে নমিনেশন দিয়েছিলেন। দেশি চাকরিজীবী আর যোগ্য প্রার্থী থাকতে বিদেশ ফেরত কেন? কাকুর কাছে খুব কৌশলে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘যোগ্যতার চাইতেও আর্থিক নিরাপত্তা আর কাঁচা গহনা উনার কাছে বিবেচনার বিষয় ছিল!’
এভাবেই প্রেমের মাঠে প্রতিনিয়ত মিছিল মিটিং করা আমার মতো হাজারো প্রেমিকের স্বপ্ন ভাঙে। বিদেশ ফেরত কিংবা দেশি পাত্র বড় কথা নয়। সব পাত্রেরই বিয়ে করার সমান অধিকার রয়েছে। কিন্তু মিতুর বাবাদের কাছে যখন আর্থিক নিরাপত্তা বা কাঁচা গহনা বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তখন ভবিষ্যত্ জীবনের জন্য আর কোনো মনোনয়ন নিতে অনেকেরই মন চায় না।
তবে বর্তমানে মিতুর বাবাদের চাইতে মিতুরা আরও একধাপ এগিয়ে আছে। তারা অবলীলায় মনোনয়নের ফরম বিক্রয় করে। আবার তাদের মনোনয়নের ফরম কেনার জন্য হিড়িকও পড়ে যায়। কিন্তু নমিনেশন বা মনোনয়ন দেওয়ার সময় তারা বেশ অংক কষে তারপর ফাইনাল করে।
‘মিতুরা’ শুধু ভুল করে এমন নয়। অনেক সময় ‘জিতুরা’ মানে ছেলেরাও শুধু বাইরের চাকচিক্য দেখে মনোনয়ন দিয়ে বসে। এটাও ভুল সিদ্ধান্ত প্রমাণিত হয়। যখন কিছুদিন পরে চাকচিক্য খসে গিয়ে আসল চেহারা বেরিয়ে পড়ে!
রাজনৈতিক মনোনয়নে অনেক সুপারস্টার জায়গা পেলেও পাত্র-পাত্রী মনোনয়নে বেশি জায়গা পায় বাড়ি, গাড়ি কিংবা ধনদৌলত এবং বড় মাপের মালদার লোকেরা। প্রেম, ভালোবাসা কিংবা বিয়েতে মনোনয়ন যোগ্যতার মাপকাঠি হওয়া উচিত সততা, চরিত্র ও পরিশ্রম। শুধু মালদার হলেই কিংবা বাইরের চাকচিক্য দেখে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত নয়।
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী
