ইবিতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

আপডেট : ০৭ মে ২০১৫, ২২:৫১
 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা বেসরকারি একটি বাসের ড্রাইভার-হেলপারকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধরের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর এলাকায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এতে বাস চালক হবিবার রহমান  ও হেলপার মেহেদী হাসান আহত হয়েছেন।
 
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়াকরা বাস ঢাকা মেট্রো-০২-০৫৩৯ কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে বাসে বাহিরের একজন  যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ কর্মী সজলের সাথে বাস কর্তৃপক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। পরে বাসটি দেড়টার সময় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছালে ছাত্রলীগ কর্মী সজলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী  বাস থেকে নেমে বাসের ড্রাইভার ও হেলপারকে মারধর করে।
 
আহত বাসের হেলপার মো. মেহেদী বলেন, ‘ যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে এক ছাত্র আমাকে ও বাসের ড্রাইভারকে ব্যাপক মারধর করতে থাকে। এসময় অন্য ছাত্ররা এসে আমাদেরকে রক্ষা করে”।
 
মারধরকারী ছাত্রলীগ কর্মী সজল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান গ্রুপের কর্মী।
 
এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বাস সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ক্যাম্পাসে বাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। মারধরের ঘটনার পর কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহর থেকে বিকালের জন্য নির্ধারিত কোনো বাস ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে আসেনি।
 
কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসে বাস সরবরাহকারী হাসানুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘কিছু দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বাসের ড্রাইভার-হেলপারকে মারধোর করেছে। ওই ঘটনার বিচার এখনো হয়নি। আজকে ছাত্রলীগ কর্মীরা আবার একটি  বাসের ড্রাইভার-হেলপারকে মেরেছে। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলে দিয়েছি, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বাস দেওয়া হবে না।’
 
ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘বাস কর্তৃপক্ষর সাথে এক কর্মীর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। পরে ও আমার কাছে ভুল স্বীকার করেছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’  বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মারধোরের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ওই ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী  কি-না তা আমার জানা নেই।’
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি।’