গ্যালারি কায়ায় মুখ ও মুখোশ

আপডেট : ০৯ মে ২০১৫, ২১:৫৪
 
 
মুখ ও মুখোশ। মানুষের মুখ নিয়েই তো মুখোশ বানায় শিল্পীরা। তাহলে কেন এ দুটি আলাদা। মানুষের যে মুখ আমরা দেখি তা কী আসল নাকি মুখোশটাই দেখতে পাই। উত্তরা গ্যালারি কায়ায় শুরু হয়েছে মুখ ও মুখোশ-৬। এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী হাশেম খানের কথাতেও উঠে এলো সেই প্রসঙ্গ। তিনি বললেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি তাদের চেহারাগুলো যেন মুখোশ। বরং দেয়ালে যেসব ঝুলছে সেগুলোই যেন মুখ। এর সঙ্গে যুক্ত করলেন, রাজনীতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই মুখোশের ছড়াছড়ি দেখছি।’
 
বাংলাদেশে মুখোশের প্রতি মানুষের আগ্রহ শুরু হয়েছে অল্প কিছুকাল ধরে। বিদেশে যাওয়া আসার ফলে আগ্রহীরা সংগ্রহ করে আনছেন মুখোশ। ফলে একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে মানুষের মাঝে। কিন্তু মুখোশের ধারায় কী বাংলাদেশের কোন ধারা তৈরি হচ্ছে? শিল্পী মাহমুদুল হক বললেন, বাংলাদেশের শিল্পধারায় দুইটি দিক যুক্ত হয়েছে। একটি আমাদের ফোক অপরটি বিদেশী ধারা। আমরাও নাগরিক হিসাবে বৈশ্বিক হয়ে উঠছি। ফলে ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা, ডেনমার্ক, জার্মানের ধারা আমাদের শিল্পীরদের মাঝেও উঠে আসছে।
 
প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে নানা ধরনের মুখোশ, মুখাকৃতি। নারী, কন্যা-পিতা-মাতা, নারী, শিশুসহ আদিবাসী ধারার নানা মুখ ও মুখভঙ্গি।
 
 শনিবার বিকালে গ্যালারি কায়ায় প্রধান অতিথি হিসাবে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক আনিসুল হক। সম্মানিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন হাশেম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী।
 
গৌতম চক্রবর্তী জানান, ২০০৫ সালে আমরা ‘মুখ ও মুখোশ’ প্রদর্শনীর আয়োজন শুরু করি। এবারে ষষ্ঠতম আয়োজন। আমাদের যে শিল্পীরা ভাস্কর্য গড়ে, ছবি আঁকে- তাদের হাতে মুখোশ কেমন হয় — সেটা দেখা। দেখলাম যে ভালোই হচ্ছে। শিল্পরসিকরা পছন্দও করছে সেসব কাজ।
 
প্রদর্শনীতে ১৫ জন শিল্পীর ১২১টি কাজ স্থান পেয়েছে। অঙশ নেয়া শিল্পীরা হলেন- কাজী রকিব, মাসুদা কাজী, সাইদুল হক জুইস, শাবিন শাহরিয়ার, দেবাশষি পাল, রেজাউল ইসলাম লাভলু, বিশ্বজিত পাল, শ্যামল সরকার, আব্দুর রহিম, পিন্টু চন্দ্র দেব, দেবাশীষ মালাকার, সন্দীপ কুমার দেবনাথ, কনক কুমার পাঠক, অমিত কুচ ও ঋতুপর্ণ ধর। প্রদর্শনী চলবে ২০ মে পর্যন্ত।