বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কাজের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন

আপডেট : ০৯ মে ২০১৫, ২৩:৩৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সালের আগেই আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব। কিন্তু, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত গত ৫ জানুয়ারি থেকে লাগাতার ৯২ দিন হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। শতাধিক নিরীহ মানুষকে পেট্রোলবোমায় পুড়িয়ে মেরেছে। জনগণ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতে তারা যাতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ না করতে পারে সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর সালনায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 
বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহ্বুবর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এমপি, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, সিন্ডিকেট সদস্য কৃষিবিদ আবদুল মান্নান এমপি, কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৃষির সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু কৃষি আজ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। একদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে, অন্য দিকে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ হেক্টর কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব।
 
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য যোগান দেওয়া সহজ কাজ নয়। শুধু খাদ্য কেন, অন্যান্য মৌলিক চাহিদা যেমন  বস্ত্র, বাসস্থান, এবং চিকিত্সার উপকরণও কৃষিজমি থেকে আসে। ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সার উপকরণের চাহিদা মেটাতে হলে আমাদের উন্নত প্রযুক্তির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
 
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. হারুন অর রশীদ, ডুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ আলাউদ্দিন, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আখতারউজ্জামান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম, কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মণ্ডল, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছে সেখানে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হল, কৃষি অনুষদ ভবন, ফিশারিজ ভবন, ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদ ভবন ও বেগম সুফিয়া কামাল অডিটরিয়াম উদ্বোধন করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রফেসর ড. এল. এম. আইজগ্রুবার গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদ ভবন, প্রফেসর ড. ইয়োশিও ইয়াদামা লাইব্রেরি ভবন, শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হল, ইলা মিত্র হল ও কৃষিবিদ ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের নাম ফলক উন্মোচন করেন।
 
তিনি বলেন, লাগসই কৃষিজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সেগুলো কৃষকের মাঝে হস্তান্তর, উপকরণ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি করে কৃষিকে একটি লাভজনক, টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কৃষি বিজ্ঞানীদের কাজ করতে হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃষিবান্ধব নীতির ফলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে রেকর্ড ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন ধান উত্পাদিত হয়েছে। আমরা প্রতিবছর ১৫ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ প্রদান করছি এবং কৃষি গবেষণায় জোর দিচ্ছি। বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ১৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি।
 
মহানন্দা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল সদর উপজেলার সাহেবের ঘাটে মহানন্দানদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৫৪৬.৬০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি। আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। এর পর থেকেই জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে সেতুটি। ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।