প্রস্তুতিতেই গলদ দেখছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ২১:২২

নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগেই প্রধান কোচ স্টিভ রোডস বলে গিয়েছিলেন, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি যে কতটা বাস্তববাদী হয়ে কথাগুলো বলেছিলেন সেটা সিরিজের মাঝপথেই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশের পর এবার টেস্টেও নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে সফরকারীদের।

হ্যামিল্টন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষেও সেই প্রস্তুতির অভাবটাই আরো বেশি করে প্রকট হলো। নিউজিল্যান্ডের ৭১৫ রানের পাহাড়ের জবাবে চার উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করেছে ১৭৪ রান। ছয় উইকেট হাতে নিয়ে এখনো ৩০৯ রান পিছিয়ে আছে সফরকারীরা। এর অর্থ ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর জন্যই এখন রীতিমত সংগ্রাম করতে হবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সৌম্য সরকারদের।

স্পিন বোলিং কোচ সুনীল যোশি দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে দায়ী করলেন প্রস্তুতির ঘাটতিকে। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি আমাদের হোম কন্ডিশনের দিকে তাকান তাহলেই বুঝতে পারবে পার্থক্যটা কোথায়! সেখানে আমরা কীভাবে প্রস্তুতি নেই? কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায় যে, প্রতিপক্ষকে সামলে নিতে আমরা সেরা প্রস্তুতিটাই নেই। কিন্তু এখানে আসার আগে আমরা আদর্শ প্রস্তুতি নিতে পারিনি। জাতীয় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটার বিপিএল খেলতে ব্যস্ত ছিল। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ছেলেরা এ কন্ডিশনের জন্য আদর্শ প্রস্তুতি নিতে পারেননি। যদিও বিষয়টি নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।’

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া যেকারো জন্যই কঠিন, তবে সেটা অসম্ভব নয়। তামিম ইকবালের উদাহরণ টেনে গোটা দলকে চোখে আঙুল দিয়ে সমস্যাটা ধরিয়ে দিলেন সুনীল যোশি। তিনি বলেন, ‘আপনি তামিমের দিকে তাকান, সে নিজের মতো করে এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। সত্যিই কি তাই না? কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেকটাই ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। কীভাবে আপনি মানিয়ে নেবেন, কীভাবে নিজের প্রস্তুতি নেবেন, কীভাবে নিজের মানসিকতা ঠিক করবেন- এগুলো খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগতভাবেও চিন্তা করতে হবে।’

১৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র ১৩টি জয় - এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আবারো পুরনো কথাটাকেই নতুন করে বললেন সুনীল যোশি। তিনিও মনে করছেন, টেস্টে সাফল্য পাওয়ার জন্য ক্রিকেটারদের মানসিকতা পাল্টানোর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করা উচিত। তারা (নিউজিল্যান্ড) ভালো ব্যাট করছে এবং আমাদের এটা মোকাবিলা করতে হবে। এ ধরনের কন্ডিশনে শেখা উচিত আমাদের, কিভাবে খেলতে হবে বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে। আপনি যখন প্রথম দিনে বল করতে যাবেন, আপনাকে খুবই সুশৃঙ্খল হতে হবে। ফিঙ্গার স্পিনারদের প্রথম দিনে এমনিতেও খুব বেশি কিছু করার থাকে না। আপনাকে শুধু জায়গামতো বল করে যেতে হবে। ধারাবাহিক হতে হবে, অন্য বোলারদের সাহায্য করতে হবে। তার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন।’