৪৫ বছরেও ভাত খাননি মানিকগঞ্জের দেলোয়ার

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০৮

কথায় বলে- মাছে ভাতে বাঙালি। ভাত ছাড়া বাঙালির চলেই না; কিন্তু এ কথা খাটে না মানিকগঞ্জের দেলোয়ারের বেলায়। জন্মের পর থেকে আজ অবধি ভাত খাননি দেলোয়ার। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের চর গড়পাড়া গ্রামে দেলোয়ারের বাড়ি। বাবা মোঃ রহম আলী ব্যাপারী। মা টগরজান বেগম। দেলোয়ার কেবল রুটি আর ফলমূল খেয়েই বেঁচে আছেন। অন্য সবার মতোই সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

দেলোয়ারের ভাত না খাওয়ার কাহিনী এলাকার সকলের মুখে মুখে। তার কথা শুনে তাকে এক নজর দেখতে চায়নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া বিরল। চর গড়পাড়া গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত এক পরিবারে দেলোয়ারের জন্ম। তার বাবা একজন কৃষক এবং মা গৃহিণী। চার ভাইয়ের মধ্যে দেলোয়ার সবার বড়। ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসে দেলোয়ার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রী শিউলি বেগম। তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখি পরিবার তাদের। চর গড়পাড়া আরজুবানু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর দারিদ্র্যতার কারণে আর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি দেলোয়ার। সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। বাবাকে সাহায্য করতে তিনি কিছুদিন দুধ বিক্রির পেশায় জড়িয়ে পড়েন। পরে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের সিদ্দিক খান সুপার মার্কেটের গেটে একটি চায়ের দোকান খোলেন তিনি। চায়ের দোকানের আয়েই চলে তার সংসার। প্রায় ২৫ বছর যাবত্ চা বিক্রি করে আসছেন তিনি। এলাকায় তার চায়েরও যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। সদা হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী ও সত্ মানুষ হিসেবে দেলোয়ার এলাকার একজন পরিচিত মুখ।

দেলোয়ারের মা জানান, ছোট বেলা থেকেই ছেলের মুখে ভাত দেওয়া হলে সে বমি করে ফেলে দিত। এর পর দুধের সাথে ভাত মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করি; কিন্তু তাতেও একই অবস্থা হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রুটি খাওয়ানোর অভ্যাস করি। সেই থেকে দেলোয়ার রুটি খেয়েই জীবন ধারণ করছে।