বিনামূল্যে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনে স্থায়ী কেন্দ্র চালু হবে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ মে ২০১৫, ০১:০৯

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, অঙ্গহীন রোগীদের বিনামূল্যে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের জন্য একটি স্থায়ী কেন্দ্র চালু করা হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) আয়োজিত বিনামূল্যে কৃত্রিম পা সংযোজন ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় বিনামূল্যে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের জন্য এই কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

 
নিটোরের পরিচালক ডা. ইকবাল কাভীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, রাজস্থানের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নওয়াবজাদা আইম উদ্দিন আহমেদ খান, ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের        সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম. ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এম. আমজাদ হোসেন, মহাসচিব ডাঃ মোনায়েম হোসেন প্রমুখ।
 
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যারা গরীব বিনামূল্য ছাড়া তাদের পা সংযোজন সম্ভব নয়। এ কর্মসূচির আওতায় গরীব জনগোষ্ঠীই সেবা পাচ্ছে। এ জন্য ভারত-বাংলাদেশের সহযোগী সব প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানাই। এ সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, স্থায়ীভাবে এ কার্যক্রম চালু করা হবে এবং এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
 
ডাক্তারদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানেই থাকবেন সঠিকভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো রোগী যেন চিকিত্সা ছাড়া ফেরত না যায়। সবাই সবার দায়িত্ব পালন করলে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনের সন্ধান পাওয়া প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অনেক নাটক দেখেছি, এখন দেখছি সালাহ উদ্দিন ভারতের মেঘালয়ে চাদর গায়ে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভবিষ্যতে হয়ত খালেদা জিয়ার আরও অনেক নাটক দেখব। বেগম জিয়া যেভাবে নাটক শুরু করেছেন, এতে অভিনেতাদের খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। খালেদা জিয়ার নাটকের শেষ নেই।
 
ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরই আমরা একটা কৃত্রিম পা সংযোজনের কর্মসূচি চালু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর নিটরের মাধ্যমে এমন একটি কর্মসূচি চালু করতে পেরেছি, এটা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। এ সময়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় স্থায়ীভাবে এ কর্মসূচি চালু করার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।
 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশে বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির উদ্যোগে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও ভারতের প্রখ্যাত জয়পুর ‘ভগবান মহাবীর বিকলাঙ্গ সহায়তা সমিতি’ এর সহায়তায় পঙ্গু রোগীদের কৃত্রিম পা সংযোজনের জন্য জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে নয়শতাধিক মানুষের কৃত্রিম পা সংযোজন ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ৭ মে থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি আগামী ২৪ মে পর্যন্ত চলবে।