রাজধানীর মহাখালী এলাকার সাততলা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশত বসতঘর এবং নয়টি দোকান পুড়ে গেছে। এ সময় আবু আকবর (৪৫) এবং তার ছেলে আবু কাওসার (২০) নামের দুজন দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা ভজন কুমার সরকার জানান—সাততলা বস্তির একটি ঘরে ভোর ৫টার দিকে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যে তা আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বস্তির কাঁচা ঘরগুলোর বেশির ভাগ বাসিন্দা তখন ঘুমিয়েছিলেন। লোকজনের চিত্কারে জেগে অনেকেই দেখেন, নিজের ঘরেই জ্বলছে আগুনের লেলিহান শিখা। এরপর তারা তড়িঘড়ি করে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান।
বস্তির বাসিন্দা নার্গিস আক্তার জানান—আগুন লাগার সময় তিনি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাত্ বেশ গরম অনুভূত হলে তার ঘুম ভেঙে যায়। তখন আশপাশে অনেক মানুষের চিত্কার শুনতে পান। এরপর লক্ষ্য করেন, তার ঘরের রেড়াতেও আগুন ধরেছে। তিনি দ্রুত ঘরের অন্য বাসিন্দাদের নিয়ে বেরিয়ে আসেন। বাইরে বেরিয়ে দেখেন, বস্তির ১০ থেকে ১৫টি ঘরে দাউদাউ করে জ্বলছে। বাসিন্দাদের কেউ কেউ চিত্কার করে কাঁদছেন। কেউ কেউ আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
প্রথম পর্যায়ে বাসিন্দাদের কেউ কেউ পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টাও করেন। তবে তাতে কাজ হয়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
সাততলা বস্তির বাসিন্দাদের বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। তারা জানান—তড়িঘড়ি করে বের হতে গিয়ে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া, আবু আকবর ও আবু কাওসার আগুনে দগ্ধ হন। বস্তির এক বাসিন্দার একটি ছাগলও পুড়ে যায়।
ঢামেক বার্ন ইউনিট সূত্র জানা গেছে—দগ্ধ আকবর এবং তার ছেলে কাওসারের শরীরের বিভিন্ন অংশে আগুনের আঁচ লেগেছে। আশা করা যায়—চিকিত্সায় তারা সেরে উঠবেন।
