বাংলা ভাষায় রোমান্টিকতার প্রধান পুরুষ কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম মাস জ্যৈষ্ঠের প্রথমদিন। কিন্তু গতকাল শুক্রবার প্রকৃতিতে ছিল বর্ষার আবহ। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি আর শিল্পী অদিতি মহসিন গান ধরলেন ‘এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়’। বৃষ্টির তোয়াক্কা না করে গতকাল যারা মিলনায়তনে এসেছিলেন সবার মন ভরে গেল। সত্যিই তো এই বর্ষা ঝরঝর দিনেই তো প্রেম নিবেদন করতে আকুল হয়ে ওঠে মন। এর আগেই গেয়েছেন ‘বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা আষাঢ় তোমার মালা’। বাইরে তখন বিজলি চমকাচ্ছে। বিরামহীন ঝরছে বৃষ্টি। অদিতি মহসিন স্বনামধন্য শিল্পী, কাল দর্শকদের তার কণ্ঠ মাধুর্যে মন ভরালেন আবারও। সবাই বুঁদ হয়ে শুনলেন তার গান।
ভারতীয় হাই কমিশনের গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল আয়োজন করেছিল বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী অদিতি মহসিনের একক সঙ্গীত আসরের। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী তাই তিনি শুরু করলেন পূজা পর্বের গান দিয়ে। প্রথমেই গাইলেন ‘আজি বিজন ঘরে নিশীথ রাতে’, এরপরেই ধরলেন ‘আমারে তুমি অশেষ করেছো’। একে একে গাইলেন, ‘কোথা হতে বাজে প্রেম বেদনারে’, ‘কোন সুদূর হতে আমার মন মাঝে বাণীর ধারা বহে’, ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব বিষম ঝড়ের বায়ে’। দর্শকের অনুরোধে গাইলেন ‘তবু মনে রেখো’, ‘কী সুর বাজে আমার প্রাণে’, ‘দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি’। সবশেষে আষাঢ়ের দুটি গান গাইলেন ‘ওগো তুমি পঞ্চদশী’ এবং ‘বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা আষাঢ় তোমার মালা’। ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ রোমান্টিক এ গান দিয়ে শেষ করেন তার গানের আসর।
গ্যালারি কসমসে দলবদ্ধ প্রদর্শনী
গুলশানের আর এম সেন্টারে গ্যালারি কসমসে শুরু হলো দলবদ্ধ প্রদর্শনী ‘সফট রিফ্লেকশনস’। গতকাল মোজারিয়া-সিয়াম’ রেস্টুরেন্টে দলবদ্ধ এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবার্ট। প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পী সমরজিত্ রায় চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বীরেন সোম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কসমস গ্রুপের কর্ণধার এনায়েতুল্লাহ খান। শিল্পী বীরেন সোমের তত্ত্বাবধানে ২৪ জন শিল্পীর সমন্বয়ে কিছুদিন আগে গ্যালারি কসমস একটি কর্মশালার আয়োজন করে। সেই কর্মশালার ছবি নিয়েই মাসব্যাপী এ প্রদর্শনী শুরু হলো। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া শিল্পীরা হলেন- মুস্তাফা মনোয়ার, হামিদুজ্জামান খান, বীরেন সোম, অলোকেশ ঘোষ, ফরিদা জামান, আনিসুজ্জামান, নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা, আব্দুল গাফ্ফার বাবু, আফরোজা জামিল কংকা, মিন্টু দে প্রাণ রায়, রাশেদুল হুদা, রুহুল আমিন তারেক, শাহনেওয়াজ কাকলী, শাহনুর মামুন, আলপ্তগিন তুষার, মামসুল বিশ্বাস, সোহাগ পারভেজ, শুলেখা চৌধুরী, সোহেল প্রাণন, সৌরভ চৌধুরী, সুলতানা পুতুল, তানিয়া সুলতানা বৃষ্টি, বিশ্বজিত্ গোস্বামী, গোলাম ফারুক বেবুল, কামরুজ্জোহা, কামালুদ্দিন, বিপ্লব দাস ও অনুকূল চন্দ্র মজুমদার।
ধানমন্ডিতে একক বনসাই প্রদর্শনী
কেএম সবুজের একক বনসাই প্রদর্শনী ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে শুরু হয়েছে। লিভিং আর্ট শিরোনামে শুক্রবার এর উদ্বোধন করেন খ্যাতিমান ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। অনুষ্ঠানে সবুজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী উদ্বোধন করে প্রিয়ভাষিণী বলেন, দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে বনসাই। শহুরে মানুষের জীবনে এই শিল্পকর্মের আবেদন এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। কেএম সবুজের বনসাই দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন দেশের বরেণ্য ভাস্কর।
তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী প্রথম দিন থেকেই জমে ওঠেছে। প্রদর্শনীতে রয়েছে ১০০ জাতের প্রায় ৪০০ বনসাই। দেশি ও বিদেশি জাতের বট থেকে বেশকিছু বনসাই করেছেন শিল্পী। আছে আম জাম জামরুল পেয়াসহ বিভিন্ন ফলের গাছের বনসাই। তেঁতুল কদবেল জলপাই গাছ থেকে গড়া হয়েছে চমত্কার বনসাই। শিমুল হিজল তমাল মহুয়া হরিতক গাছের বনসাই প্রদর্শনীকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। তিনদিনব্যাপী প্রদর্শনী আগামীকাল রবিবার পর্যন্ত চলবে।