স্থায়ী সনদ আছে মাত্র দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের

আপডেট : ১৬ মে ২০১৫, ০১:৪৯

নির্দিষ্ট সময়ে শর্ত পূরণ করে স্থায়ী সনদ নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাত্র দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী সনদ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মতে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আবেদন করেনি এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭। দেশে বর্তমানে ৮৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যার মধ্যে স্থায়ী সনদ থাকার কথা ৫৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের।

 
নিজ ক্যাম্পাসে গিয়ে আইনের সব শর্ত পূরণ করে স্থায়ী সনদ পেয়েছে রাজধানীর আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আর যোগ্যতার কিছু ঘাটতি থাকায় শর্তসাপেক্ষে স্থায়ী সনদ পেয়েছে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়। ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক শামসুল আলম বলেন, মাত্র দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী সনদ পেয়েছে। কোনটি সনদ পাওয়ার যোগ্যতা থাকার পরও আবেদন করে সনদ নিচ্ছে না।  স্থায়ী সনদ পেতে হলে সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। কিন্তু শর্ত পূরণ করার পরও যদি নির্ধারিত আবেদন না করে তাহলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্থায়ী সনদ পাবে না। আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠার ৭ বছরের মধ্যে স্থায়ী সনদ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী সনদ পেতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় অন্যূন এক একর এবং অন্যান্য এলাকায় অন্যূন দুই একর জমি থাকতে হবে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের নূন্যতম শতকরা ৬ ভাগ শিক্ষার্থীকে টিউশনসহ অন্যান্য ফি মওকুফ করতে হবে। প্রতি বছর এই তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে জমা দিতে হবে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে ব্যয় করতে হবে। সাময়িক অনুমোদনের সময়সীমার মধ্যে নির্ধারিত জমিতে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া স্থায়ী সনদের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সকল শর্ত পালন করতে হবে। সাময়িক অনুমোদনের পর স্থায়ী সনদ নিতে ব্যর্থ হলে অনধিক পাঁচ বছরের জন্য নবায়ণ করা যাবে।
 
তবে আইনের বেশি অংশই পূরণকরছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আইন না মানলে কোন ব্যবস্থা নেই— এ কারণেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইনের প্রতি মনোযোগ কম এমনটি বলছেন খোদ ইউজিসির কর্মকর্তারা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বলা আছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে অনুমতিপত্রের মেয়াদ অবসানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও শিক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
 

এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক অনুমতির মেয়াদের মধ্যে স্থায়ী সনদপত্রের জন্য আবেদন করতে ব্যর্থ হলে সাময়িক অনুমতি বা নবায়নকৃত অনুমতিপত্রের মেয়ার শেষ হবার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চলমান কোর্সের বিষয়ে মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আইনের অধিকাংশই মানছে না। আর এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে না। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আমি এ প্রতিষ্ঠানে সবেমাত্র যোগদান করেছি। তাই আইন বুঝেই এ বিষয়ে মতামত দিতে চাই।