মানসম্মত বীজ ব্যবহারে ফসলের ২০ শতাংশ ফলন বৃদ্ধি সম্ভব

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ২২:১৯

উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ সহজলভ্য করে ফসলের উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। এজন্য ২৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উত্পাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক মূল্যে কৃষকদের নিকট সঠিক জাতের উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ সহজলভ্য করে ফসলের উত্পাদনশীলতা ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে। প্রকল্পটি গত একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।  চলতি বছর এপ্রিল থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে, দেশে নগরায়ণ ও অন্যান্য কারণে প্রতিবছর আবাদযোগ্য জমি হ্রাস পাচ্ছে, যা দেশের টেকসই খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ প্রেক্ষিতে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেক্টর প্রতি দানাদার ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু মানসম্মত বীজ ব্যবহার করে ফসলের প্রায় ১৫-২০ শতাংশ ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব। বিএডিসিসহ বিভিন্ন বীজ কোম্পানি কৃষকের চাহিদা মোতাবেক এলাকা উপযোগী জাতের বীজ সরবরাহ করতে পারে না বিধায় কৃষকগণ স্থানীয় জাত বা বিদেশি জাতের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে সদ্য উদ্ভাবিত সম্ভাবনাময় জাতগুলো কৃষক পর্যায়ে যেতে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লেগে যায়। তাছাড়া এগুলো প্রয়োজনের তুলনায় পরিমাণেও অনেক কম। বাংলাদেশে আউশ ও গমের এলাকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু অনেক জেলাতেই ভালো জাত বা বীজের অভাবে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছে না। এখন কৃষক আউশ মৌসুমে ব্রি ধান ৪৮, ব্রি ধান ৬৫ এর পরিবর্তে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ২৮ জাতের আবাদ করছে। কৃষক তার চাহিদা মতো বারি গম ২৮, বারি গম ২৯, বারি গম ৩০, বারি গম ৩১ এর বীজ পাচ্ছে না বিধায় রোগ সংবেদনী ও কম ফলনশীল জাত যেমন শতাব্দী, প্রদীপ, সৌরভ জাতের গম আবাদ করছে। অন্যদিকে বিএডিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত পাট বীজ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এবং বেসরকারি বীজ কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহকৃত পাট বীজও কৃষক পর্যায়ে সময়মত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। ধান, গম ও পাট তিনটি ফসলই নোটিফাইড ফসল হওয়ায় এবং পরিমাণে বেশি লাগে বিধায় বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো এসব বীজ বাজারজাতকরণে আগ্রহ কম থাকে। সেইসাথে উন্নতমান ধরে রাখতেও সক্ষম নয়। এ প্রেক্ষিতে কৃষক পর্যায়ে ধান, গম ও পাট বীজ উত্পাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে সহজলভ্য করার জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য এলাকা ব্যতীত দেশের সকল জেলায় ৩৪ হাজার ৮৮০টি বোরো, রোপা আমন, আউশ, গম এবং পাট বীজ উত্পাদন প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে। ২৫ হাজার ৭৭০টি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ উপকরণ যেমন, বীজ, সার, বালাইনাশক, বীজ শুকানো ও সংরক্ষণ পাত্র, ময়েশ্চার মিটার, চালনি, মোড়কীকরণের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ক্রয় করা  হবে। উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানসম্মত ধান ১ লাখ ৪৬ হাজার মে.টন, গম ১১ হাজার ২শ মে.টন এবং পাট বীজ ৯০ মে.টন চাষি পর্যায়ে উত্পাদন ও বিপণন করা হবে।