সবকিছুই যখন বড়দের জন্য, তখন ছোটদের জন্য চমত্কার এক আয়োজন। বিশাল আয়োজনটি আবার পরিচালনা করছে ছোটরাই। সেখানে দেখানো হচ্ছে তাদের মননের উপযোগী চলচ্চিত্র। আবার অনেকগুলো শিশুতোষ চলচ্চিত্রের নির্মাতাও শিশুরাই। সব মিলিয়ে চারপাশে যেন শুধুই তাদের কলরব। সোনামণিদের জয়গান গাওয়া বর্ণিল সেই উত্সবটির সূচনা হলো গতকাল শনিবার বিকালে। ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ স্লোগানে চলছে ১২তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সব। বিনা দর্শনীতে উন্মক্ত উত্সবে ছোটদের সঙ্গে ছবিগুলো উপভোগ করতে পারবেন অভিভাবকরাও। রাজধানীর পাঁচটি ভেন্যুতে প্রদর্শিত হবে ৩২টি দেশের ২০০টি চলচ্চিত্র। মূল উত্সব কেন্দ্র সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন। অন্য চারটি ভেন্যু হলো জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, ব্রিটিশ কাউন্সিল, শিল্পকলা একাডেমি ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ। প্রতিদিন বেলা ১১টা, দুপুর ২টা, বিকাল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় মোট ৪টি প্রদর্শনী হবে। সপ্তাহব্যাপী উত্সবটির আয়োজক চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি।
গতকাল গণগ্রন্থাগার চত্বর ও শওকত ওসমান মিলনায়তনে দুই পর্বে উত্সবের উদ্বোধন হয়। প্রথম পর্বে উন্মুক্ত আঙিনায় শিশুরা গেয়ে শোনায় উত্সব সঙ্গীত ‘আলো আমার, আলো ওগো, আলো ভুবন-ভরা’। এরপর একসঙ্গে জাতীয় পতাকা ও ফিল্ম সোসাইটির পতাকা উত্তোলন করেন অতিথিরা। এসময় আয়োজকসহ সকলের কণ্ঠে গীত হয় ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। এরপর উড়িয়ে দেওয়া হয় শান্তির প্রতীক পায়রা ও একঝাঁক বর্ণিল বেলুন।
উদ্বোধনী আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় শওকত ওসমান মিলনায়তন। এখানে প্রজ্বালন করা হয় উত্সব প্রদীপ। উত্সব উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী। ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি মুহম্মদ জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুনীরা মোরশেদ মুন্নী। আলোচনায় অংশ নেন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মোরশেদুল ইসলাম, উত্সব পরিচালক আবীর ফেরদৌস। সংক্ষিপ্ত কথনে অংশ নেন উত্সবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ‘ফাইভ রুপিস’-এর নির্মাতা পিয়ুস পানজুয়ানি এবং শিশুতোষ চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রের শিশু অভিনেতা ইউহান। আলোচনা শেষে প্রদর্শিত হয় ‘ফাইভ রুপিস’।
