আলোচনা সভায় বক্তারা

নভেরাকে বাদ দিয়ে ভাস্কর্য চর্চা সম্ভব নয়

আপডেট : ১৯ মে ২০১৫, ১৯:২১
নভেরা আহমেদকে বাদ দিয়ে ভাস্কর্য চর্চা সম্ভব নয়। তার সামাজিক জীবন বলে কিছু ছিল না; ভাস্কর্যই ছিল তার জীবন। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। সেই সময় আমাদের শিল্প সাহিত্যে যারা ছিলেন, তাদের এক ধরনের বৈরিতা তাকে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছেন। তার সৃষ্টি ধামাচাপা পড়ে থাক—এমনটাই ছিল অনেকের মানসিকতা। গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের লেকচার থিয়েটার হলে ‘নভেরা আহমদে: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ভাস্কর নভেরা আহমেদকে স্মরণ করেছে চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগ।
 
নভেরার সমকালীন শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, নভেরা অত্যন্ত সরল মনের ছিলেন। তার সামাজিক জীবন বলে কিছু ছিল না; ভাস্কর্যই ছিল তার জীবন। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। তিনি বলেন, অনেক স্টাকচারের কাজ হয়েছে, কি নভেরার কাজের সঙ্গে কোন মিল নেই। ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান, নভেরা এদেশের ভাস্কর্যের ইউনিক। তিনি ইউরোপে লেখাপড়া করেছিলেন এবং ভাস্কর্য শিল্পকে ভালোভাবে আত্মস্থ করেছিলেন। পাবলিক জাদুঘরের এক পাশে নভেরার ভাস্কর্য নিয়ে একটি কর্ণার হওয়া উচিত।
 
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, নভেরা এতো বড় শিল্পী, তাকে নিয়ে অনেক কিছু করার কথা ছিল; অথচ আমরা তাকে নিয়ে কিছুই করিনি। আমাদের দেশে একটা প্রবণতা আছে, আমরা কোয়ালিটি দিয়ে বিচার করি না; বিচার করি আবেগ দিয়ে। বিবেচনা করা হয় কে আগে করল, কে বেশি করল। তিনি বলেন, নভেরাকে নিয়ে গবেষণার ভেতর দিয়ে অনেক সত্য বেরিয়ে আসতে পারে। নভেরা অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল ছিলেন বলেই তার জীবনে এই নীরবতা ও প্রস্থান। 
 
শিল্প সমালোচক মঈনুদ্দিন খালেদ বলেন, নভেরাকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য ‘আমরা’ এবং এ রাষ্ট্র দায়ী। তার কাজ বোঝার মতো মানুষ তখন ছিল না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তাকে একুশে পদক দেয়া হয়েছে; অথচ তার মৃত্যুর পর রাষ্ট্র কিংবা রাষ্ট্রের বড় কোন প্রতিষ্ঠান তার স্মরণে কোন শোক সভা করেনি। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী নভেরার ভাস্কর্য নষ্ট হতে দেখেছেন কিন্তু সে বিষয়ে কেউ কোন কথা বলেননি। তিনি বলেন, এখন সরকার উদ্যোগ নিয়ে তার কাজগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেন।
 
চিত্র নির্মাতা এম রাশেদ চৌধুরী বলেন, সেইসময় আমাদের শিল্প সাহিত্যে যারা ছিলেন, তাদের এক ধরনের বৈরিতা তাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছেন। তার সৃষ্টি ধামাচাপা পড়ে থাক এমটাই ছিল অনেকের মানসিকতা। গবেষক শিশু কুমার শীল বলেন, নভেরার নামটি শহীদ মিনারের সঙ্গে যুক্ত হলে ভালো হতো। নভেরাকে বাদ দিয়ে ভাস্কর্য চর্চা সম্ভব নয়।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক রেজাউল করিম সুমন বলেন, নভেরা কেবল শহীদ মিনার ও আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃত্ নন; তিনি ভাস্কর্যের পাইওনিয়ার। নভেরা-জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণায় এ সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কৃত হয়েছে যা নভেরাকে আমাদের কাছে খণ্ডিতভাবে নয় বরং তার সামগ্র্যে তুলে ধরবে।
 
ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক লাল রুখ সেলিম বলেন, শহীদ মিনারের রূপকার হিসেবে হামিদুর রহমানের নামের পাশাপাশি নভেরার নাম থাকা উচিত। নভেরা আহমেদের কাজ নিয়ে গবেষণা করতে গেলে তার শেষের দিকের কাজগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা দরকার। সরকার এই কাজটি করতে পারে।