সময়মতো রাতের খাবার

আপডেট : ২০ মে ২০১৫, ১৬:৫৪
সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় একটি কাজ হলো ঘুম। আর এ ঘুমের ব্যাঘাত হলে কোনোকিছুই যেন ঠিক থাকে না। সারাদিনের কাজ করার শক্তি থাকে না, আর সেই সাথে ভেঙে পরে স্বাস্থ্য। ঘুমের সাথে রয়েছে খাবার গ্রহণের সম্পর্ক। কারণ ভালো স্বাস্থ্য পেতে সঠিক সময়ে আহার এবং ঘুম দুটোই আমাদের প্রয়োজন। আর তাই সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ এবং ঘুম সম্পর্কে জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
 
আমাদের মধ্যে অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে টিভি দেখে সময় কাটায় বা ম্যাগাজিন পড়ে অথবা বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে গল্প গুজব করে। এ সময় আমাদের অ্যাকটিভ লেভেল একেবারেই কম থাকে। আমরা এখন এমন লাইফস্টাইলে অভ্যস্ত যে, বাড়ি ফিরেই ডিনার খাওয়ার কথা ভাবতেই পারি না। হালকা খাবার খাই সেসময়। তারপর রাত করে পছন্দের সিরিয়াল দেখতে দেখতে করা হয় ডিনার।
 
কিন্তু এ রুটিনে পেটের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় ওভারলোডিংয়ের ফলে সে খাবার হজম করতে পারে না। আমাদের মধ্যে আরও একটা স্বভাব দেখা যায়, প্রচুর খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়া। খালি পেটে যেমন ঘুম আসে না, ঠিক তেমনই বেশি খেলে ঘুম ভালো হয় না। ক্যালরি বার্নের জন্য ভালো ঘুম খুব দরকার। কারণ, আমরা যখন ঘুমোই, বডি সেল রিপেয়ার্ড হয় (ঠিক যে কারণে আমরা রাতে মুখে দামি ক্রিম লাগাই), হরমোনাল ব্যাল্যান্স ভাল হয়, সেল রিজুভিনেশন হয় এবং শরীর ফ্রেশ থাকে। ঘুম ভালো না হলে হরমোন বা লিন টিস্যু, ফ্যাট বারনিং প্রসেসকে সাপোর্ট করতে পারে না। রাতে ঘুমানোর সময় শরীরের কাজ একমাত্র ‘রিপেয়ার অ্যান্ড রিজুভিনেট’। আর যদি বেশি খাওয়া হয়ে যায়। সেই খাবার হজম হবে না, ফলে, খাবার ঠিকমতো হজম হয় না, সেল রিজুভিনেটও পুরোপুরি হয় না। ফলে, সকালে ঘুম থেকে উঠে শুধু ক্লান্তই লাগে না, পেট ফুলে যায়, অ্যাসিডিটি হয়, ঢেঁকুর ওঠে।
 
আর তাই এ সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ এবং সঠিক সময়ে ঘুম। সবচেয়ে ভালো হয় যদি রাতে ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে ফেলা যায় আর তার পর ঘুম। এরপর সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে দেখা যাবে শরীর ও মন ভালো লাগছে, মেজাজও ফুরফুরে থাকবে। ডিনারে নিয়মিত স্যুপ, স্যালাদ, গ্রিলড ফিশের মতো হালকা খাবার খান। এতে আপনার শরীর সুস্থ ও সুন্দর থাকবে।