ভুয়া কোম্পানিতে বিনিয়োগের ফাঁদ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৬

ভুয়া কোম্পানি খুলে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ চক্রটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাপান-বাংলাদেশ কোম্পানির নামে একেক সময় একেক কৌশল অবলম্বন করে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে আসছে বলে জানিয়েছে র্যাব। চক্রটি এরইমধ্যে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের কাছ থেকে।

গতকাল কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানান। এর আগে গত শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর, দারুস সালাম, উত্তরা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারকচক্রের ওই ২২ জনকে গ্রেফতার করে তারা। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে ইমরান হাসান (২৭), এম আজাদ (৫০), হুমায়ন কবির ওরফে হালিম (৫৭), আ.ন.ম রফিকুল ইসলাম (৪৯), আল আমিন সরকার রাজ (২২), আব্দুল বারেক ওরফে এবি বারী (৬১), আব্দুল আউয়াল (৪৬), শাহাদাত্ হোসেন (৩০), মিনহাজ মিঝি (৫৬), কামরুজ্জামান (৪৫), হাবিবুর রহমান (৩৫), আয়নাল হক (৩৮), সঞ্জিত চন্দ  সাহা (৩৪), সামসুল আলম মজুমদার (৪৮), মেহেদী হাসান হাবিব (৩১), ইউসুফ (৫৩), হিরণ (১৯), মামুনুর রশিদ (৩৪), মাসুদুর রহমান জলিল (৫০), মাকসুদুর রহমান ওরফে দিপু (৩৫), রফিকুল ইসলাম (৬৪) ও মিজান (৩৫)।

র্যাব জানায়, প্রতারণার জন্য বেশ কয়েকটি কৌশল ব্যবহার করে তারা। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে তাদের প্রথমে ভুয়া কোম্পানিতে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়। একপর্যায়ে বিভিন্নভাবে তাদের প্রলুব্ধ করে টাকা বিনিয়োগ করায়। পরে এই টাকা নিয়ে সটকে পড়ে প্রতারকরা। মুফতি মাহমুদ জানান, সুসজ্জিত অফিস ও দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির নামে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অফিস খুলত চক্রটি। পরে টার্গেট করা লোকদের কৌশলে অফিসে এনে ভুয়া চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে নিত। তাদের বলা হতো এই চুক্তির মাধ্যমে তাদের কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে কিছুদিন যাওয়ার পর তাদের কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার করার প্রস্তাব দিত চক্রটি। ভিকটিম রাজি হলে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাইত। নগদ অর্থ হাতে পাওয়ার পর চক্রের সদস্যরা উধাও হয়ে যেত।