গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে চাটমোহরসহ চলনবিলাঞ্চল। কাঠফাটা রোদে মানুষ ও পশু পাখির প্রাণ ওষ্ঠাগত। কোথাও স্বস্তি নেই। খাঁ খাঁ করছে মাঠ, ঘাট, পথ-প্রান্তর। তবে বোরো চাষীরা এই আবহাওয়ায় ধানকেটে নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারলেও কৃষি শ্রমিকের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অসহ্য গরমে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। হিটস্ট্রোকে চাটমোহরে ২ জন মারা গেছেন।
এরা হলেন- পার্শ্বডাঙ্গার রফিকুল ইসলাম (৩২) ও আটলংকা নুতন পাড়ার আ. জলিল (৪০)। বৃহস্পতিবার এদের মৃত্যু হয়।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে চাটমোহরসহ আশপাশের উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ৩ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন। ২০ জনের বেশি শিশু এখনও চিকিৎসাধীন।
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সবিজুর রহমান জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক সময় ডায়রিয়ার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানির অভাব, রাস্তায় জীবানুযুক্ত পানি পানও ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি বেশি করে পানি পান করাসহ ডায়রিয়া হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলেন।
এদিকে গরমে দিনে-রাতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বেলা ১১টার পর থেকে পথে-ঘাটে আগুনের মতো হল্কা চোখ, মুখ ও শরীরকে যেন পুড়িয়ে দেয়। দুপুর ১টার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পথ-ঘাট জনশুণ্য হয়ে পড়ে। শুক্রবার চাটমোহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৮ ডিগ্রি। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
