শ্রম আইনের বিধির কিছু বিষয়ে আপত্তি আইএলও’র

আপডেট : ২৩ মে ২০১৫, ০৭:২২

২০১৩ সালে সংশোধিত শ্রম আইনের চূড়ান্ত বিধিমালা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশ হচ্ছে। ওই বিধির কিছু বিষয় নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন নেই সেখানে অংশগ্রহণমূলক কমিটি ও নিরাপত্তা কমিটিতে শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। অর্থাত্ এক্ষেত্রে আইএলও’র নীতিমালা মানতে হবে। ইস্যুটি নিয়ে ইতিমধ্যে মালিকপক্ষ, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সাথে সভা করেছে বাংলাদেশে সফররত সংস্থাটির উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। 

 
তবে এ বিষয়ে কারখানা মালিকপক্ষ ও সরকার আপত্তি জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে বিধিমালায় যুক্ত করা হবে।
 
জানা গেছে, যেসব কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন হয়নি সেখানে অংশগ্রহণমূলক কমিটি গঠন করা যায়। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ ভোটের পরিবর্তে মনোনীত প্রতিনিধি দেয়া হবে। শ্রমিক পক্ষের অভিযোগ, এ প্রতিনিধি নির্বাচনে সাধারণত মালিকদের ইচ্ছারই প্রতিফলন হয়। এ বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে আইএলও। সংস্থাটি মনে করছে, এ প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচিত হলে তাতে শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরের প্রকৃত প্রতিফলন নাও থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও মালিকপক্ষকে আইএলও’র মান ও নীতিমালা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ ধরনের কমিটি গঠনে প্রত্যক্ষ ভোট ব্যবস্থার বিধান রেখে বিধিমালা চূড়ান্ত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।
 
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আইএলও’র ফ্রিডম অব অ্যাসোসিয়েশন শাখার প্রধান ক্যারেন কার্টিসের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসেন। ১৯ মে থেকে গতকাল পর্যন্ত তারা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনসহ শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সংস্থাটির আপত্তির কথা জানায়। 
 
এ বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ইত্তেফাককে বলেন, ঠিক আপত্তি নয়, আইএলও কারখানার শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে আমাদের কিছু পরামর্শ দিয়েছে। তাদের ওই পরামর্শতো আর হুবহু মানা সম্ভব হবে না। আমাদের বিদ্যমান আইনের আলোকেই এ বিষয়টি বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
 
২০০৬ সালের শ্রম আইন নিয়ে নানামুখী সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত শ্রম আইনে কারখানায় শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারের (ট্রেড ইউনিয়ন) বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে বিধিমালা প্রকাশ হয়নি। বিধিমালা হলো বিভিন্ন ধারার পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ। বিধিমালা না হওয়ায় শ্রমিকদের অনেক আইনি অধিকারই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছিল না। বিধিমালা দ্রুত প্রকাশ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, আইএলওসহ গার্মেন্টসের ক্রেতা দেশগুলো থেকে ক্রমাগত চাপ আসছিল। এ পরিস্থিতিতে সরকার সমপ্রতি এ বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়।
 
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, শ্রম আইনের বিধি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। শিগগিরই এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের (আইনি যাচাই-বাছাই) জন্য পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম শেষে আগামী মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে এটি প্রকাশ করা হবে।
 

শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চালু রয়েছে এমন কারখানার সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩শ’ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে। বাদবাকি কিছু কারখানায় ট্রেড ইউনিয়নের বদলে অংশগ্রহণমূলক কমিটি রয়েছে। আবার অনেক কারখানায় তাও নেই।