ট্রাইব্যুনাল হচ্ছে ৭ বিভাগে

আপডেট : ২৫ মে ২০১৫, ০০:১৬

আইন প্রণয়নের তিন বছর পর মানব পাচারের অপরাধ বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠিত হচ্ছে। এতে দোষী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ সাজা হিসাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে।

 
প্রাথমিকভাবে দেশের সাত বিভাগে সাতটি ট্রাইব্যুনাল হবে জেলা জজের নেতৃত্বে। এসব ট্রাইব্যুনালে আলাদা বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। এ কথা জানিয়েছেন আইন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। গতকাল রবিবার তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
 
২০১২ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মানব পাচার প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের অধীনেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হচ্ছে। ওই আইন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তত্কালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক)—বর্তমান বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব—মো. কামাল উদ্দিন। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য আগেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব দেয়া রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য বিধি-বিধানের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
 
সূত্রমতে, মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে এখন পর্যন্ত অন্তত দুইশ মামলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলছেন, ট্রাইব্যুনালের জন্য বিচার থেমে নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার অব্যাহত আছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধভাবে শত শত বাংলাদেশি নাগরিককে মালয়েশিয়ায় সাগরপথে পাচার করার ঘটনায় সারা বিশ্ব এখন সোচ্চার। সকলেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।
 
গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারন করেছেন। তিনি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে পাচারবিরোধী জনমত তৈরি, তদারকি করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।