কলেজ শিক্ষককে লাঞ্ছনা

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশ্রাফুলকে হাইকোর্টে তলব

আপডেট : ২৬ মে ২০১৫, ০১:২৮

কলেজ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৫ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। এছাড়া এ ধরনের লাঞ্ছনাকর শাস্তির ঘটনা কেন অবৈধ ঘোষণা এবং ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

 

‘সহকারী অধ্যাপককে পা ধরে মাফ চাইতে বাধ্য করলেন ম্যাজিস্ট্রেট’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল এইচএসসি ইংরেজি ১ম পত্র পরীক্ষা চলাকালীন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বপালন করছিলেন শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য মোনতাজ উদ্দিন। এক পর্যায়ে সেলফোনে কথা বলতে বলতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশ্রাফুল ইসলাম। এ সময় মোনতাজ উদ্দিন তার পরিচয় জানতে চাইলে ক্ষেপে যান আশ্রাফুল ইসলাম। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডা চলে। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনির হোসেন হাওলাদার ও পুলিশকে ডেকে পাঠান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা প্রকাশ্যে মোনতাজ উদ্দিনকে ম্যাজিস্ট্রেটের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। শিক্ষকের মাফ চাওয়ার এই ছবিও প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সারাদেশে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন মোনতাজ উদ্দিন।