আদিবাসী তরুণীকে কেন ক্ষতিপূরণ প্রদান নয় :হাইকোর্ট

আপডেট : ২৬ মে ২০১৫, ০২:১৯

রাজধানীতে চলন্ত মাইক্রোবাসে আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় এক গুচ্ছ রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে ধর্ষিত তরুণীকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার তরুণীর মামলা গ্রহণ ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন ও তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠাতে বিলম্বের ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে এ রুলের জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। এছাড়া মামলা গ্রহণে অবহেলার জন্য কোন্ পুলিশ সদস্যরা দায়ী এবং তাদের বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তিন সপ্তাহের মধ্যে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন।

 
যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী ২১ বছর বয়সী ওই আদিবাসী তরুণী বৃহস্পতিবার রাতে একদল যুবক কর্তৃক চলন্ত মাইক্রোবাসে ধর্ষণের শিকার হন। পরে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হলে ধর্ষণের প্রমাণ মেলে। এ ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা মামলা করার জন্য প্রথমে তুরাগ থানায় যান। কিন্তু ঘটনাটি অন্য এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় তুরাগ থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। ভোর ৫টার দিকে সেখান থেকে তারা গুলশান থানায় যান। সেখানে গিয়েও একই উত্তর মেলে। শেষে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় যান তারা। কিন্তু ওসি না থাকায় মামলা নেয়া হয় না। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসার পর ভিকটিমের বক্তব্য শুনে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রবিবার হাইকোর্টে রিট দায়ের করে ৫টি মানবাধিকার সংগঠন- আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাষ্ট), জাতীয় মহিলা পরিষদ, নারীপক্ষ ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম।
 

শুনানি শেষে হাইকোর্ট ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে বৈষম্যহীনভাবে থানাগুলোতে সবার সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারকে একটি (নির্দেশনা) সার্কুলার জারি করতে বলা হয়েছে। এছাড়া যৌন হয়রানি ও যৌন সহিংসতা রোধে বিদ্যমান আইন ও প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, আইনজীবী ও নারী অধিকারকর্মীদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে নামের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৩১ মের মধ্যে এই তালিকা আদালতে দাখিল করতে রিটকারী সংগঠনগুলোকে বলা হয়েছে।