মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ আগামী মাসে দিল্লি সফরে যাবেন। দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই হবে তার প্রথম বিদেশ সফর। এই সফর চুড়ান্ত করার জন্য আগামী ২৬ নভেম্ভর দিল্লিতে যাবেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সোলিহ ইতিমধ্যে তার দেশের উপর থেকে চীনের প্রভাব কমাতে ‘ভারত প্রথম’ নীতি ঘোষণা করেছেন। ভারতে প্রথম সফরের মধ্য দিয়ে তার সেই কথার কার্যকরিতা প্রমাণিত হচ্ছে। দিল্লির একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে কৌশলগত কারণে ভারত মালদ্বীপের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে যারপরনাই আগ্রহী।
ইতিমধ্যে ভারত মালদ্বীপে অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্লে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া দেশটির উন্নয়নে সব ধরনের প্রয়োজনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। গত শনিবার সোলিহ’র শপথ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মোদি। সেখানে তার সঙ্গে একান্তে বৈঠকও করেন। গত সাত বছরের মধ্যে মালদ্বীপে এটাই কোনো ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধানের সফর। এর আগে ২০১১ সালে মালদ্বীপ গিয়েছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ওই অনুষ্ঠানে মোদীর উপস্থিত থাকা চীনের প্রভাব বলয় থেকে মালদ্বীপের বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগের সরকারের সময়ে চীনের কাছ নেওয়া বিপুল ঋণ পরিশোধে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সহায়তা চেয়েছেন সোলিহ। মালদ্বীপের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের পরাজয় আঞ্চলিক কৌশলগত রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে চীনকে সরিয়ে সেই স্থান দখলে নিতে ভারতের পথ প্রশস্ত করেছে। আবদুল্লাহ ইয়ামিনের সময়ে চীনের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বির সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে ঘাটতি তৈরি হয় মালদ্বীপের।
