'তোমাকে দিয়েই হবে'

আপডেট : ২৭ মে ২০১৫, ১০:৪৮


কেটি কিউরিক—ইয়াহু নিউজের গ্লোবাল অ্যাঙ্কর, বিখ্যাত সাংবাদিক, উপস্থাপক ও লেখক। ২০১৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিসের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই বক্তৃতা দেন। বক্তৃতাটি অনুবাদ করেছেন শেখ হাসান হায়দার-

প্রথমেই ধন্যবাদ সবাইকে আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কথা বলা আমার কাছে সবসময়ই আনন্দদায়ক। এটা অনেকটা নিজের অতীতকে চোখের সামনে দেখতে পাওয়ার মতো।

আমি জানি আজকের দিন অনেকের কাছেই অত্যন্ত আনন্দের। অনেকদিন পর একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি পেরিয়ে তোমরা অবশেষে ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াচ্ছ। নিজের ভবিষ্যত্ এখন তোমাদের নিজেদের হাতে। আমিও একদিন এই সময়ে ছিলাম। সুতরাং আমার অভিজ্ঞতা বলে, আজকের দিনটা তোমাদের কাছে বহুল প্রতীক্ষিত। তবে একদিন বুঝতে পারবে, এখন যেমন মনে হচ্ছে সামনের পথটা ঠিক সেরকম নয়, বরং অনেকটাই প্রতিকূলতায় ভরপুর।

আজকের দিনে তোমাদের জন্য যা বলতে চাই, তা হলো—তোমাদের সামনের বিশালপথ পাড়ি দেওয়ার আগ মুহূর্তে আছ এখন তোমরা। এই জীবনে যাই করো না কেন সেই কাজ মন থেকে এবং অধ্যবসায়ের সাথে করো। কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের গোপন রেসিপি। একটা কথা মনে রেখো, কঠোর পরিশ্রম প্রতিভাকেও হার মানায় যদি প্রতিভাবান কঠোর পরিশ্রম না করে। বড় কোনো কাজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করো না, বরং নিজের যোগ্যতা সবাইকে দেখিয়ে দাও।

জীবনে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে, আর প্রতিদিন চেষ্টা করতে হবে নতুন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করার। এই অভিজ্ঞতাই মানুষকে করে তোলে অনন্য। পাইলট চেসলি সালেনবার্গার যেদিন হাডসন নদীতে প্লেন ল্যান্ড করান তারপর তার সাথে আমার কথা হয়। তিনি আমাকে বলেন, ‘৪২ বছর ধরে আমি আমার অভিজ্ঞতার ব্যাংকে অল্প অল্প করে অভিজ্ঞতা জমিয়েছি; ১৬ জানুয়ারিতে এই অভিজ্ঞতাই আমাকে সাহস জুগিয়েছিল হাডসনে ল্যান্ড করার, যার জন্য ১০৫৫ মানুষের জীবন বেঁচে গিয়েছিল।’ জীবনে তুমি যত পরিশ্রমী হবে, যত ধৈর্যশীল হবে ততই ভাগ্যবান আর সফল হয়ে উঠবে দিন দিন। আমার এখনো মনে পড়ে আমি যেদিন আমার প্রথম লাইভ শো করি, এরপর সিএনএনের প্রেসিডেন্ট আমাকে কল করে বলেন তিনি আমাকে আর টিভিতে দেখতে চান না। বিষয়টি আমার জন্য কষ্টকর হলেও আমি ভেঙে পড়িনি। বরং আরও বেশি পরিশ্রম করেছি, কঠোর সাধনা ছাড়া কোনো কিছুই লাভ করা যায় না। আমি লোকাল নিউজ থেকে পেন্টাগনে নিউজ করেছি, প্রেসিডেন্টের ইন্টারভিউ নিয়েছি। তাই বলব, সবাই যখন বলবে তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না, তখন ভেঙে পড়ো না; বরং নিজেকে বলো, তোমাকে দিয়ে হবে, তোমাকে দিয়েই হবে। আর করে যাও পরিশ্রম। স্বার্থ চিন্তা কিংবা রাগ হয়তো তোমাকে কিছুক্ষণের জন্য শান্তি দেবে, দেবে ক্ষমতা কিন্তু তা ক্ষণিকের জন্য। ভিতর থেকে তোমার শুদ্ধতা শুভ্রতা কে নষ্ট করে দেবে তোমার এ ধরনের চিন্তা। তাই বলছি বড় হও, সাহসী হও, অন্যকে সম্মান দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করো, জেতার মানসিকতা তৈরি করো, সতর্ক হও, যত্নশীল হও। সবশেষে তোমাদেরকে আবারও অভিনন্দন এবং অনেক শুভ কামনা জানিয়ে শেষ করছি।