মুসলিম বিয়ে ও তালাক আইনে দুর্বলতার শিকার নারী

আপডেট : ২৮ মে ২০১৫, ১২:৩৩
অনতিবিলম্বে প্রস্তাবিত ‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪’ সংশোধনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে মহিলা আইনজীবী সমিতি। তারা বিদ্যমান আইনের দুর্বলতাগুলো দূরীকরণে প্রস্তাবিত আইনে বেশ কিছু সংযোজন ও সংশোধন প্রস্তাব এনেছেন। 
 
গত সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা এ দাবি জানান। বিদ্যমান আইনের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে নারীদের স্বার্থ রক্ষায় আইনটিকে অধিক কার্যকর ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন ও সংযোজনের জন্য এই কর্মশালা থেকে সুনির্দিষ্ট মতামত ও কিছু সুপারিশ পাওয়া যায়।
 
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো, আনিসুল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি মোঃ ইমান আলী ও কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস এর টিম লিডার জেরম সায়ার। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, আইনজীবী ও মিডিয়া প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য এডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। কর্মশালা পরিচালনা করেন সমিতির নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট সালমা আলী।
 
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, মুসলিম বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের বিধান থাকা সত্ত্বেও শতভাগ বিয়ে রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার কর্তৃক কাবিননামার সকল কলাম পূরণ না করার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে নারীদের ন্যায্য প্রতিকার নিশ্চিত করা যায় না। অন্যদিকে পুরুষের একচ্ছত্র অধিকার থাকায় মুসলিম পুরুষ ইচ্ছেমত স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে। কিন্তু তালাক কার্যকর হলেও স্ত্রীকে দেনমোহর, ইদ্দতকালীন ভরনপোষণ ও সন্তানের হেফাজত বাবদ পাওনা আদায়ে বছরের পর বছর আদালতসহ বিভিন্ন ফোরামে ঘুরেও তার প্রাপ্ত দেনমোহর, ইদ্দতকালীন ভরনপোষণ ও সন্তানের হেফাজত বাবদ পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হয়।
 
মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর রাখার দাবি
বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪- এ মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ৬৯টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।
 
কমিটির উদ্যোগে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয় মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ করার জন্য সরকারের এ্যাকশনপ্ল্যাান করা অশুভ ও পশ্চাদপদ সিদ্ধান্ত, যা কোনভাবেই নারী আন্দোলন মেনে নেবে না। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
 
সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর। আরও বক্তব্য রাখেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল, উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি জাকিয়া কে হাসান গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, জাতীয় নারী জোটের আহ্বায়ক আফরোজা হক রীনা, কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের নাসিমা আক্তার জলি এবং স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভলপমেন্টের রঞ্জন কর্মকার।
 
আয়শা খানম বলেন, ৪৫ বছরে সমাজে নারীর যখন একটি ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়েছে ঠিক সেই সময়ে দেখা যাচ্ছে একধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীর এই অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
 
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, ১৯২৯ সালের আইনে যেখানে মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ ছিলো সেখানে ২০১৫ সালে এসে তা ১৬ করা হলে এটা সরকারের পশ্চাত্পদ সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই হবে না। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ১৬ বছরে যেখানে একটি মেয়ে স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারে না সেখানে এই বিয়েকে আইনগতভাবে বৈধ করার মানে হচ্ছে নারীর অগ্রগতির যাত্রাকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করা।