ইউপি উপনির্বাচনে হস্তক্ষেপ

ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে ইসির চিঠি

আপডেট : ২৮ মে ২০১৫, ২১:২২
 
 
নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরভাট্টা ইউনিয়নের শূন্য চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহার করায় এক ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চরজববার থানার ওই ওসির নাম এ কে এম এনামুল কবির। কমিশনের নির্দেশে ইসি সচিবালয়ে উপসচিব শামসুল আলম স্বাক্ষরিত এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার ইসির এক উপসচিব এ কথা জানান।
 
গত ২৫ মে সারা দেশে অর্ধশতাধিক ইউনিয়নের শূন্য পদে উপনির্বাচন হয়। অন্যান্য ইউপির মতো চরভাট্টা ইউপির শূন্য হওয়া চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চরজব্বার থানার ওসি নগ্নভাবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার  করেছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছে ইসির কর্মকর্তারা।
 
চিঠিতে বলা হয়েছে—চরজববার থানার ওসির নির্দেশে চরভাট্টা ইউপির উপনির্বাচন পরিচালিত হয়েছে। ক্ষমতাসীন সমর্থিত প্রার্থী রাজীবকে বিজয়ী করতে নগ্নভাবে তিনি  এ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন। ভোটগ্রহণ চলাকালে ব্যালট নিয়ে সংকট দেখা দেয়ায় শীবচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ-পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ ইসির নির্দেশে স্থগিত করেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। কিন্তু ওসি এনামুল কবির কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রিসাইডিং অফিসারকে জোরপূর্বক স্থগিত কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ চালুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলেও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জানান।
 
এ ছাড়া, কয়েকটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে কেন্দ্রে ভোট গণনার সুযোগ না দিয়েই ওসি তাদের উপজেলায় পাঠিয়ে দেন। কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী—ভোট গণনার পর ভোটকেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করা এবং পরে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ঘোষিত ফলাফল সিট হস্তান্তরের নির্দেশ রয়েছে। চরভাট্টা ইউপির উপনির্বাচনে নির্বাচনের সব ধরনের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন নিরাপত্তায় নিয়োজিত ওসি এনামুল কবির বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এবং সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন চরজববার থানার ওসি এ কে এম এনামুল কবিরকে বরখাস্ত এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
 
ইসির এক উপসচিব বৃহস্পতিবার বলেন—নির্বাচনে প্রভাব খাটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ব্যালট ছিনতাই রোধ এবং ভোটকেন্দ্র দখল বন্ধ করা—নির্বাচনে প্রভাব খাটানো নয়। কিন্তু ওসি কবির নিজেই সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাই নানা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কমিশন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইজিপিকে চিঠি দিয়েছেন।