রাজশাহীর বাজারে ফলের রাজা আম

আপডেট : ৩০ মে ২০১৫, ০০:৩৬

স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজশাহীর বাজারে আসছে ফলের রাজা আম। এর মধ্যে দেশি গুটি জাতের আমই বেশি। তবে জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে সীমিত আকারে গোপালভোগ ও ক্ষিরসাপাত আম পাওয়া যাচ্ছে। এর দামও বেশি।

 
বেশি দামের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কেমিক্যাল ব্যবহার করে অপরিপক্ব আম বাজারে আনতে না পারেন সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন আগামী ৫ জুনের আগে আম বাজারজাত করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে আম ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলছেন, পরিপক্ব আম গাছেই পাকতে শুরু করায় ক্ষতি এড়াতে তারা ৫ জুনের আগেই আম নামাতে বাধ্য হচ্ছেন।
 
এদিকে আম বাজারে আসতে শুরু করায় তত্পরতা বেড়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আম ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীরা দেশের সর্ববৃহত্ দুই আমের হাট কানসাট ও বানেশ্বরে ভিড় করতে শুরু করেছেন। এছাড়া অধিকাংশ ব্যবসায়ী বাগানে অবস্থান নিয়ে আম নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় আমের দামও বেশ চড়া। রাজশাহীর বানেশ্বর ও পুঠিয়াসহ আশেপাশের হাটগুলোতে প্রতি মণ আম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দেশি গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ দামে। বাজারে আসা অল্প পরিমাণে গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা মণ দামে।
 
নগরীর ফল ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, সপ্তাহখানেক থেকে আড়তে আম আসছে। কেনাবেচাও বাড়ছে। ঢাকায় আম পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। রাজশাহীর আমের বাজার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আরো সপ্তাহখানেক সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। আরেক আম ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি গুটি আমের দাম খুচরা বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এছাড়া আগাম আসা গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দামে। এর পাশাপাশি রাজশাহীতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জাতের ভারতীয় আম। বাজারে ভারতীয় আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা দামে।
 

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, রাজশাহীতে প্রতি বছরই বাড়ছে আমের আবাদ। গত ছয় বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণেরও বেশি জমি এসেছে আম বাগানের আওতায়। ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন আম আবাদের দিকে ঝুঁকেছেন। রাজশাহীর প্রায় সব এলাকায় কম-বেশি আমের আবাদ হচ্ছে। এ বছর রাজশাহী জেলায় ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এখান থেকে প্রায় আড়াই লাখ টন আম উত্পাদিত হবে। বর্তমানে আসছে গোপালভোগ ও রানীপছন্দ জাতের আম। সপ্তাহখানেকের মধ্যে আসবে লখনা, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ, দুধসর, মোহনভোগ জাতের আম। এরপর আসবে আকর্ষণীয় আম ফজলি। সবশেষে বাজারে আসবে আশ্বিনা।