পাকিস্তানি স্বৈর শাসকদের বিরুদ্ধে মানিক মিয়ার কলম ছিল অস্ত্র: মোহাম্মদ নাসিম

আপডেট : ০২ জুন ২০১৫, ০০:৫১

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মেধা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করেছিল। তিনি বলেন, পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে মানিক মিয়ার কলম অস্ত্রের মতো কাজ করেছিল। স্বায়ত্তশাসনসহ ৬ দফার আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু সবসময় মানিক মিয়ার পরামর্শ নিয়েছেন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম।

 
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া উপ-মহাদেশের এক ক্ষণজন্মা প্রবাদপুরুষ। বঙ্গবন্ধুসহ সবার কাছে তিনি শুধু শ্রদ্ধার পাত্রই ছিলেন না, স্বাধিকার আন্দোলনের নানা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু মানিক মিয়ার কাছ থেকে পরামর্শও নিতেন। মানিক মিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী কলাম ‘মুসাফির’-এর কথা উল্লেখ করে নাসিম বলেন, এই কলামটি পড়ার জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকতাম। এই কলামটি না পড়ে কেউ বক্তব্য দিতেন না। মানিক মিয়ার উদাহরণ টেনে মোহাম্মদ নাসিম বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, এখন অনেক হলুদ সাংবাদিকতা হয়। মানিক মিয়ার মতো ক্ষুরধার লেখা এখন আর দেখতে পাওয়া যায় না। সবাইকে মানিক মিয়ার মতো সত্য বলার সাহস অর্জন করতে হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছরের এই সময়ে দেশে গণতন্ত্র থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে পুরো দেশে জ্বালাও-পোড়াও এবং হত্যার উত্সবে মেতেছিল। জেপিসহ ১৪ দলীয় জোট মিলে আমরা সে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। দেশে শান্তি-শৃংখলা ফিরে এসেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ অনেকগুলো সূচকে এগিয়ে আছে। বিশেষ করে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। একথা শুধু আমরা বলছি না, বুদ্ধিজীবীরাও শেখ হাসিনা সরকারের সফলতার কথা বলেছেন। এ সরকারের আমলে সীমান্ত সমস্যা সমাধান ও সমুদ্রসীমা ঠিক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি এতদিন ভারত-বিরোধিতা করে মৈত্রী চুক্তিকে গোলামি চুক্তি বলছিল; কিন্তু সীমান্ত সমস্যা সমাধান হবার পরে এখন তাদের ভারত-প্রীতি বেড়ে গেছে। বিএনপি যে একটি ডিগবাজির দল তা প্রমাণ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ ছিটমহলবাসীকে স্বাধীনতা দিয়েছে। ৪২ বছর পর তারা মুক্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের জন্য কাজ করছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মানুষ খুন করে, জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষের মন জয় করা যায় না। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে। এর ফলে আমরা আবার ভোট চাইতে জনগণের কাছে যেতে পারি। তবে ২০১৯ সালের আগে এদেশে কোন নির্বাচন নয়। বিএনপি সে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে পারে।
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শাজাহান খান বলেন, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া একজন সাধারণ মানুষ নন। তিনি মহামানব। সাংবাদিকতায় তার সাহস এবং আদর্শ বাঙালি জাতীয়তাবাদ উন্মেষে সহায়ক হয়ে ছিল। তার বলিষ্ঠ লেখনীর কারণে অনেকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশেও মানিক মিয়ার মতো সাংবাদিক প্রাসংগিক। আজ দেশের স্বাধীনতা নস্যাতের ষড়যন্ত্র চলছে। মানিক মিয়া বেঁচে থাকলে আজও এইসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লিখতেন। নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, নাশকতা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে ২০ দলীয় জোট দেশের শান্তি নষ্ট করতে চায়। পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ পোড়ানো এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে তারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে ১৪ দলীয় জোট সেই সন্ত্রাস মোকাবেলা করেছে। গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়া মায়াকান্না করছেন উল্লেখ করে শাজাহান খান বলেন, গণহত্যাকারীদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।
 
সভাপতির বক্তব্যে শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, মানিক মিয়া আমাদেরকে আপোসহীন হবার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি জনগণের পক্ষে কাজ করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে জনমত গঠনে তার ক্ষুরধার লেখনী ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, আজকের রাজনীতিতে ত্যাগ নেই, শালীনতা নেই। মানিক মিয়ার কাছ থেকে আজকের রাজনীতিবিদদের শেখার আছে অনেক কিছু।
 
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ মল্লিক, আবদুর রহিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেপি দলীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচ সালাহউদ্দিন আহমেদ, মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, আমিনুল ইসলাম পিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন, নাজমুন নাহার বেবী, মোহাম্মদ হোসেন রেনু, যুগ্ম-মহাসচিব জামিনুল হক বকুল, খলিলুর রহমান খলিল, খন্দকার শাহীন আল দ্বীন রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তপন, দপ্তর সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাহাংগীর আলম প্রধান, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, লাকী রহমান প্রমুখ।
 

সভা পরিচালনা করেন জাতীয় পার্টির জেপি’র অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী।