সিলেটে মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার সাথে জড়িত অভিযোগে ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে (২৫) গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে আদালত ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানায়। গ্রেফতারকৃত ইদ্রিস আলী সিলেট মহানগরীর বিমানবন্দর থানার ফতেহগড়ের ইলিয়াছ আলীর ছেলে। ইদ্রিস আলী বর্তমানে সিলেটের স্থানীয় দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকায় ফটো সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি দৈনিক সংবাদের সিলেট অফিসে ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন।
অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার প্রায় ১ মাসের মাথায় এ মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে এই প্রথম একজন ফটো সাংবাদিক গ্রেফতার হলেন। এর আগ পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এ মামলার আর কোন আসামী আটক হয়নি।
পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার গভীর রাতে সিআইডির একটি টিম ইদ্রিস আলীকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। গতকাল তাকে সিলেট মহানগর হাকিম আমলী ২য় আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালতের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিআইডি পরিদর্শক আরমান আলী উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের সাথে ইদ্রিস আলী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এছাড়া সে একজন জঙ্গি অপরাধী চক্রের সদস্য বলেও জানা গেছে। এ অবস্থায় অনন্ত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, ঘাতকদের সনাক্ত ও অনন্তের হত্যার দায় স্বীকারকারী আনসার বাংলা টিম (এবিটি) এর কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনের জন্য আদালতের কাছে ইদ্রিস আলীর ১৫ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন সিআইডি কর্মকর্তা আরমান আলী। আদালত ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া ইদ্রিস আলী প্রায় ৩ বছর ধরে ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। প্রথমে তিনি দৈনিক সংবাদের সিলেট অফিসে ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় ৬ মাস আগে তিনি স্থানীয় দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকায় স্টাফ ফটোগ্রাফার পদে যোগদান করেন। মাসখানেক আগে ইদ্রিস আলী বিয়ে করেন।
ইদ্রিস আলীর বাবা ইলিয়াছ আলী বলেন,'আমার ছেলে জঙ্গি তৎপরতার সাথে যুক্ত নয়। ব্লগার অনন্ত হত্যার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। সে সম্পূর্ণ নির্দোষ। হত্যাকাণ্ডের দিন সে বাড়িতেই ছিল। পরে খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সে ঘটনাস্থলে যায়।' তিনি আরো জানান, তার ছেলেকে বাড়ি থেকে নয় নগরীর কোন জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালায় ও তার দু’টি শার্ট জব্দ করে নিয়ে যায়।
এব্যাপারে ইদ্রিস আলীর কর্মস্থল দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকা কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, তাদের জানামতে ইদ্রিস আলী একজন পেশাদার ফটো সাংবাদিক হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছে।
গত ১২ মে সিলেট মহানগরীর সুবিদবাজারের রবীন্দ্র কুমার দাশের ছোট ছেলে ব্লগার-লেখক, তরুণ ব্যাংকার অনন্ত বিজয় দাশকে নিজ বাসার অদূরে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত চার জনকে আসামী করে সিলেট বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল আলম। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে মামলার কোন অগ্রগতি না হওয়ায় পরে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয়।
এদিকে অনন্ত হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে সিলেটে বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠন হরতাল, সমাবেশসহ একের পর এক কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে।
