আগামী এক মাসের মধ্যে রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তরা পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণের অর্থ পাচ্ছেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় ৩ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থের সংকুলান হয়েছে। ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সমন্বয়ে গঠিত সমন্বয় কমিটি সূত্র জানিয়েছে, ২ হাজার ৮শ’ জনের বাইরে আরো ২৪ জন ক্ষতিপূরণের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, গত এপ্রিলে রানা প্লাজার দুই বছর পূর্তিতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ না আসায় পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হয়নি। মোট ৩ কোটি ডলারের (২৩০ কোটি টাকা) প্রয়োজন হলেও তখন পর্যন্ত ২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার তহবিল যোগাড় হয়। সম্প্রতি বাদবাকী অর্থ হাতে এসেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করা যাবে। প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে একজন নিহত শ্রমিকের পরিবার কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা ও আহত শ্রমিক কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে বলে নিশ্চয়তাও পাওয়া গেছে।
গতকাল রবিবার আইএলও’র ঢাকা অফিস এক বিবৃতিতে ক্ষতিপূরণের পূর্ণাঙ্গ তহবিল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পাবেন। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় তাদের ৭০ শতাংশ ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক গাই রাইডার অর্থের সংকুলান হওয়ায় অর্থ প্রদানকারী ব্র্যান্ড কোম্পানিসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান। সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বানও জানান।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ধসে ১১ শতাধিক পোশাক শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরো প্রায় ১ হাজার শ্রমিক। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে গত বছরের শুরুতে ‘রানা প্লাজা ডোনার্স্ ট্রাস্ট ফান্ড’ নামে একটি তহবিল গঠন করে। রানা প্লাজার কারখানাগুলো থেকে পোশাক সংগ্রহকারী ২৮টি ব্র্যন্ডকে এই তহবিলে অর্থ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা শুরুতে ৪ কোটি ডলার করা হলেও পরবর্তীতে ৩ কোটি ডলারে নামিয়ে আনা হয়। তবে দুর্ঘটনার দুই বছর পার হলেও তহবিলে পূর্ণাঙ্গ অর্থ না মেলায় গত এপ্রিলে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করা সম্ভব হয়। এতে সমালোচনার মুখে পড়ে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলো।
রানা প্লাজার আহত শ্রমিক ও নিহতদের পরিবার-পরিজন মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৫ হাজার সদস্য দাবিনামা পূরণ করেন। তাদের সবার জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের বাদ দিয়ে ২ হাজার ৮শ’ জন (দাবিনামা অনুযায়ী) ক্ষতিপূরণের অর্থপ্রাপ্তির তালিকায় রয়েছেন। ক্ষতিপূরণের অর্থ নিহত শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের (সংখ্যার ভিত্তিতে) ও আহত শ্রমিকদের বন্টন করা হচ্ছে।
