বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পটুয়াখালির ছোটবিঘাই গ্রামে বসবাস করতো ১৩ বছরের কিশোর আবুল বাশার। ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ ফুফাতো বোনের ছেলে রবিউল ইসলাম তাকে চাকরি দেওয়ার নামে ঢাকায় নিয়ে আসে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আবুল বাশারের কোন খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ চার মাস। আত্মীয় স্বজনের বাসায় খোঁজা-খুজির পর থানায় সাধারণ ডায়রিও করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাজধানীর দারুস সালাম এলাকার একটি কাচাঁ বাজারের পরিত্যক্ত বাথরুম থেকে বাশারের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই ঘাতকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাশারের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতে গাবতলী এলাকা থেকে শহীদুল ইসলাম ভুট্টো (২০) ও রাকিবুল হাসান রকি (১৯) নামে দুই ঘাতককে গ্রেফতার করা হয়। রবিউলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. কাইয়ুমুজ্জামান জানান, বাশার নিখোঁজের ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছিল। বুধবার রাতে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শহীদুল ও রাকিবুল নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাশারকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী অভিযান চালিয়ে দারুসসালাম থানা এলাকার একটি কাচাবাজারের পরিত্যক্ত বাথরুমের ভিতরের থেকে বাশারের হাড় উদ্ধার করা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঘাতকরা ছুরিকাঘাতে বাশারকে হত্যার পর বাথরুমের ভিতর লাশ লুকিয়ে রাখে বলেও তারা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে।
দারুস সালাম থানার এসআই জালাল উদ্দিন জানান, হাড়গোড় উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় বুধবার রাতে দারুস সালাম থানায় নিহত কিশোরের বাবা বাদী হয়ে রবিউল ইসলাম ও গ্রেফতার ওই দু’জনের নামে মামলা করেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নিহতের বড় ভাই আলী হোসেন জানান, কাজ দেওয়ার নাম করে বাশারকে তাদের ফুফাতো বোনের ছেলে রবিউল ইসলাম ঢাকায় ডেকে নিয়ে আসে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাশারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি দাবি করেন, রবিউলের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু কি কারণে সে তার ভাইকে হত্যা করল তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
