লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস খুনের রহস্য উদঘাটন হয়নি বা এর সাথে জড়িতদের সম্পর্কে কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। দিনে-দুপুরে সিলেট নগরীর কলাপাড়ায় নিজের বাসার অদূরে অনন্তকে কুপিয়ে হত্যা করে চার মুখোশ পরা দুর্বৃত্ত। গতকাল শুক্রবার এই হত্যাকাণ্ডের একমাস অতিবাহিত হয়।
সিআইডির বিশেষ টিম স্থানীয় একটি দৈনিকের ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে (২৫) গ্রেফতার করে এখন ঢাকার সিআইডি হেড অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
সিআইডির কর্মকর্তারা তাকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ইদ্রিস এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয় অস্বীকার করেছে। সিআইডি কর্মকর্তারা নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইদ্রিস আলীর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড ও ঘাতকদের ব্যাপারে তথ্য নিতে চাইছেন। ব্লগার অনন্ত খুনের পরদিন স্থানীয় দৈনিক ‘সবুজ সিলেটে’ যে ছবি ছাপা হয়েছিল সেই ছবির ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিআইডির কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন বলে আশাবাদী।
গত ১২ মে সকালের দিকে নগরীর সুবিদবাজারে দীঘিরপাড়ে খুন হন অনন্ত বিজয় দাস। তিনি পূবালী ব্যাংক জাউয়াবাজার শাখায় কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। অনন্ত সুবিদবাজার নূরানী ১৩/১২ নং বাসার রবীন্দ্র কুমার দাসের পুত্র। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আনসার আল-ইসলাম-৮ নামের জঙ্গি সংগঠন টুইট বার্তা দেয়। নিহতের সহোদর রত্নেশ্বর দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ঘাতকদের আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় হত্যা মামলা করেন। এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরুল আলমকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে মামলাটি সিআইডিতে পাঠানো হয়। ৭ জুন রাতে সিআইডি সিলেট থেকে গ্রেফতার করে ফটো সাংবাদিক ইদ্রিসকে। পরের দিন ইদ্রিসকে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক ফারহানা ইয়াসমিনের আদালতে হাজির করলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী ১৫ দিনের রিমান্ড চান ইদ্রিসের। আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। পরে ইদ্রিসকে সিআইডির বিশেষ টিম তাদের সদরদপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
গ্রেফতারকৃত ইদ্রিস আলী শহরতলীর এয়ারপোর্ট থানার ফতেহগড়ের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউ.পি সদস্য ইলিয়াস আলীর পুত্র। ইদ্রিস ইতিপূর্বে ‘দৈনিক সংবাদের’ ফটো সাংবাদিক হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। সি.আই.ডির পরিদর্শক (অর্গানাইজড ক্রাইম) আরমান আলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তার নেতৃত্বে সিআইডির বিশেষ টিম গত এক সপ্তাহ আগে সিলেটে আসে। এরপর সিলেটে এক সপ্তাহ অবস্থান করে। এক পর্যায়ে গ্রেফতার করা হয় ইদ্রিস আলীকে। গ্রেফতারের পর রাতে ইদ্রিস আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কম্পিউটার খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ইদ্রিসের পরিধেয় দুইটি শার্ট নিয়ে আসে। প্রায় এক মাস আগে বিয়ে করেন ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলী। সিআইডি আশা করছে, জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।