চলে গেলেন পেট্রোল বোমায় দগ্ধ রণজিৎ

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৫, ০০:৪৮

পবিত্র শবে বরাতের রাতে কুমিল্লার চান্দিনায় বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় দগ্ধ রণজিত্ শর্মা (৫৯) টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হার মানলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তিনি রাঙ্গামাটি কলেজের গণিত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন।

 
গত ২ জুন চান্দিনার কাঠের পুল এলাকায় ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটিগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এতে দগ্ধ ৭ জনের মধ্যে ৬ জনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাদেরই একজন রণজিত্ শর্মা। তার শ্বাসনালিসহ শরীরের ৪৪ ভাগ পুড়ে যায় বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা।  রণজিত্ শর্মার বাড়ি রাঙ্গামাটি সদরে। বাবার নাম হরিপদ শর্মা। স্ত্রী পপি শর্মা। বর্ষণ শর্মা ও বিন্দিয়া শর্মা নামে দুই সন্তানের জনক তিনি। লাশের ময়নাতদন্তের পর গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালে রণজিতের স্বজনদের আহাজারিতে হূদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
 
অগ্নিদগ্ধ অপর ৫ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। ঢামেক বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পালন বলেন, এদের সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাই সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।
 
এদিকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় কুমিল্লার চান্দিনা থানার এএসআই প্রবীর কুমার রায় একটি মামলা দায়ের করেন, যাতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়। পরে আসামিদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর চান্দিনা উপজেলার আমির আবুল বাশারসহ (৬০) দলটির ৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাসে নাশকতার ওই ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি করা হলেও তার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
 

এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের টানা তিন মাসের হরতাল-অবরোধে পেট্রোল বোমায় দগ্ধদের মধ্যে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন ২২ জনের মৃত্যু হয়। ওই সময় ভর্তি হওয়া ২ জন এখনও বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন। চিকিত্সা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন আরও অন্তত দুই শতাধিক দগ্ধ ব্যক্তি।