মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, তার দেশের ভেতর বাইরের কোনো দেশের সামরিক অভিযান মেনে নেয়া হবে না। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট অফিসের পরিচালক জ হ্যাতে কলকাতার টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন। খবর এনডিটিভি ও দ্য হিন্দু’র।
জ্য হ্যাতে বলেন, প্রত্যেক দেশের উচিত অপর দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা করা। ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত মিয়ানমারে যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে আলোচনা করতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল মিয়ানমারে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। মিয়ানমার সরকারের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতের পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার মিয়ানমার সীমান্তে নাগা বিদ্রোহীদের (খাপলাং) দমনে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটির ভেতরে প্রবেশ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানে শতাধিক বিদ্রোহী নিহত হয়। মাত্র ৪৫ মিনিট ধরে এই অভিযান চালানো হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং এই অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরদিন মিয়ানমার সরকার তার দেশের ভেতরে কোনো বিদ্রোহী নিহত হয়নি বলে জানায়। আর ভারতে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি হুমকি থাকলে ভারত যে কোনো দেশের যে কোনো স্থানে অভিযান চালাতে পারে।
এই অভিযানের পরিকল্পনা নেয়া হয় ৫ দিন আগে। এ কারণে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরসঙ্গী হননি। তিনি মণিপুরে চলে যান। এজন্য সেনাপ্রধান জেনারেল দলবির সিং সুহাগও তার যুক্তরাজ্য সফর বাতিল করেন। তিনিও চলে যান মনিপুরে। সেখানে তিনি কোর-৩ এর কম্যান্ডার ও আসাম রাইফেল্স কর্তাদের সঙ্গে মঙ্গলবারের হামলা নিয়ে প্রাথমিক বৈঠক করেন। মিয়ানমার সরকারের শীর্ষ মহলে হামলার খবর জানাতে হত। কিন্তু সেই দেশের সেনাবাহিনীকে সরকারিভাবে আগে ওই তথ্য জানাতে চায়নি ভারতীয় সেনাবাহিনী। তাতে খবর ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা ছিল। অভিযানের কয়েক মিনিট আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। এতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও নজরে রাখা হয়। উল্লেখ্য, ভারত এবং মিয়ানমার ২০১০ সালে সীমান্তে বিদ্রোহীদের দমনে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
ক্ষমতাসীন বিজেপি আর নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই বিশেষ অপারেশনের মাধ্যমে একটা বার্তা দেয়া হয়েছে সব দেশকেই যে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসীদের রুখতে সীমান্ত পার হতেও ভারতীয় সেনারা পিছপা হবে না। এই অংশের ইঙ্গিত পাকিস্তানের দিকেই। ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায় চৌধুরী বলেন, ভারত সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার ফলেই এত বড় অভিযান চালাতে পেরেছে সেনাবাহিনী। তার মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই বিভিন্ন দেশকে একটা বার্তা দেয়া গেছে যে প্রয়োজন পড়লে বিদেশে গিয়েও সেনাবাহিনী জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারে। যেসব দেশের এই বার্তা বোঝা উচিত, আশা করা যায় তারা বুঝতে পারবে।