রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে আসিয়ানের হস্তক্ষেপ কামনা মাহাথিরের

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৫, ০১:৩২

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর ‘গণহত্যা’ চলছে জানিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। শুক্রবার কুয়ালালামপুরে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর জন্য মিয়ানমারকে আসিয়ান জোট থেকে বহিষ্কার করা উচিত। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা গত আটশ’ বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের অংশ হয়ে রয়েছে। তাদের জন্মভূমি থেকে এভাবে বিতাড়ন আইনের বিরোধী।  এশিয়া ওয়ান মালয়েশিয়া নিউজ  অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে নারী, শিশুসহ হাজারো রোহিঙ্গা সম্প্রতি মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের দিকে পাড়ি জমায়। মানব পাচারকারীদের শিকার হওয়া ছাড়াও দমনপীড়নের কারণে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

 
মাহাথির বলেন, এটি শুধু নৌকার সমস্যা নয়। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়—এমন বিবেচনায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর চুপ করে থাকার সমালোচনা করেন তিনি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর বৈষম্য ও ‘গণহত্যার’ বিষয়ে ইঙ্গিত করে মাহাথির বলেন, হতে পারে এটি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু জনগণের ওপর   এমন নিষ্ঠুর অত্যাচার করার অধিকারও কোনো দেশের নেই। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পবিত্রতা সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণা পাল্টাতে হবে। আর মালয়েশিয়ার সরকারের উচিত হবে, রোহিঙ্গাদের বিষয়টি আসিয়ানে তোলা। গণহত্যা চালায়, এমন কোনো দেশ আসিয়ানের সদস্য থাকুক, আমরা তা সমর্থন করতে পারি না। এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ আমাদের করতেই হবে। মানবিক আচরণ করার আহ্বান মিয়ানমার যথাযথ সাড়া দেয়নি। বরং তারা নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করে চলেছে। রোহিঙ্গারা এমন ভাগ্য আশা করে না। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের বিষয়টি আসিয়ানের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে তোলারও পরামর্শ দেন মাহাথির। তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা জাতিসংঘে তুলতে পারি। দেশটিকে  একঘরে করা উচিত।     
 

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজার রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিকে পাচারকারীরা নৌকায় করে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। যাদের মধ্যে ৩০০ জন মারা গেছেন।