পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য এ প্রতিষ্ঠানের কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, ট্রাস্ট ফান্ডের জনবল কম থাকায় রেনডম স্যাম্পলিং এর মাধ্যমে কিছু প্রকল্প হলেও মনিটরিং করতে হবে। গতকাল সোমবার ‘বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের কার্যক্রম উন্নয়ন’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।
সংগঠনের মহাকালী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, নানা কারণে বিশ্বব্যাংকের ১৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে আছে। এরকম ডিএফআইডিসহ অনেকের অর্থ বন্ধ হয়ে আছে। আমাদের পরিচালনা ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের মনে অনেক প্রশ্ন ছিল। ইআরডি বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ধারণা হলো, বিদেশ থেকে অর্থ আসবে এবং সে অর্থ আমরা প্রকল্পের মাধ্যমে খরচ করবো। কিন্তু যে পরিমাণ অর্থ বিদেশিদের হাতে আছে তা তারা ছাড় করছে না। বিষয়টি ইআরডি, অর্থ মন্ত্রণালয়ও জানে। এ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ মন্ত্রী ট্রাস্ট ফান্ডের কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে বলেন, এই ট্রাস্ট ফান্ড প্রধানমন্ত্রীর সৃষ্টি। এর পেছনে কারণ ছিল এই, বাংলাদেশও তার সামর্থ্য অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে। পৃথিবী হতবাক হয়ে দেখলো একটি উন্নয়নশীল দেশ এ কাজে অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। বরাদ্দ কিন্তু কম নয়। এডিপিসহ ধরলে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কম নয়। সেজন্য এই ফান্ড সুষ্ঠুভাবে ব্যবহূত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন, আমাদের ভাবমূর্তিটা একটু পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা টাকা বরাদ্দ দিলেও প্রকল্পও আমরা প্রণয়ন করি না, তার দেখভালও আমরা করি না। ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো মনিটরিং করার মতো জনবল আমাদের নেই। এ কাজে বিশেষ বরাদ্দ নেই, যানবাহন নেই। এরপরও কয়েকটি প্রকল্প আমরা মনিটরিং করেছি। তিনি আরো বলেন, আমরা দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রকল্পগুলো মনিটরিং করবো। এজন্য যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যদি অফিসাররা প্রকল্পগুলো মনিটরিং করতে পারে তাহলে অবস্থার অবশ্যই উন্নতি হবে। জলবায়ু সম্পর্কে আমি খুব আত্মবিশ্বাসী। কারণ দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য তারা আমাদের অর্থ দেয়নি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি বিষয়, এখানে আমি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হই তাহলে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সমুদ্রের পানি এক মিটার বাড়লে দক্ষিণাঞ্চলের এক তৃতীয়াংশ ডুবে যাবে। কিন্তু প্যারিসে আমি বলে এসেছি, বাংলাদেশ ডুবলে ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি রাজ্য ডুবে যাবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বিদেশিরা আমাদেরকে হাজার হাজার কোটি টাকা দেয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু এ খাতে কত টাকা এসেছে তা তারাও জানে আমরাও জানি। তাদের অর্থনীতির অবস্থাও খারাপ। এজন্য তাদের উচিত কি পরিমাণ অর্থ তারা দিতে পারবে তার ওপর প্রতিশ্রুতি দেয়া।
বনায়নের বিষয়টি গাছপালা লাগানোর বিষয়টি এখন অনেক জনপ্রিয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে মানুষ এখন মাসে একবার হলেও গ্রামে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে তারা গাছপালা লাগাচ্ছে।
ট্রাস্ট ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্ঞান রঞ্জন শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোখলেছার রহমান সরকার, পরিচালক মাহবুব হোসেন, মো: মিজানুর রহমান প্রমুখ।
