ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টারত হাজার হাজার অভিবাসীর সংকট মোকাবিলায় আলোচনা শুরু করেছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এই অভিবাসীদের ইউরোপের ২৮টি রাষ্ট্রের মধ্যে ভাগ করে নেয়ার বিষয়টিই লুক্সেমবার্গে মঙ্গলবারের এই বৈঠকে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠে।
অভিবাসী সংকটের ফলে ইতালি, গ্রিস এবং মাল্টার সম্পদের ওপর বিশাল চাপ পড়ছে বলে দেশগুলো জানিয়েছে। উত্তর ও পূর্ব ইউরোপের কোনও কোনও দেশ অবশ্য এও বলছে, অভিবাসন প্রত্যাশীরা যেতে চায় না, এমন দেশে যেতে বাধ্য করা উচিত হবে না। কেননা ইতোমধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু অভিবাসী।
এবছর এ পর্যন্ত ১৮শ’র বেশি অভিবাসী ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছে। গতবছরের চেয়ে যা বিশ গুণ বেশি।
এর বেশিরভাগই সংঘাতপূর্ণ লিবিয়া ছেড়ে ছোট ছোট জীর্ণ নৌকায় করে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে রওনা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইইউ নৌবাহিনীর সদস্যরা এমন বহু অভিবাসীকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেছে। এছাড়া এ বছর ইতালি এবং গ্রিসের উপকূল দিয়ে এরই মধ্যে এক লাখের বেশি অভিবাসী সমুদ্রপথে ইউরোপ গিয়ে পৌঁছেছে। তাইতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিকল্পনা করছে কিভাবে এসব অবৈধ অভিবাসীদের ইউরোপে পুনর্বাসন করা যায় এবং এর সঙ্গে জড়িত মানবপাচারকারী চক্রকে নির্মূল করা যায়।
ইতালি সরকার জানিয়েছে, তার চাই ইউরোপে আগত নতুন অভিবাসীদের একটি সুষ্ঠু বণ্ঠন। সম্প্রতি ইতালিতে ২৪ হাজার এবং গ্রিসে ১৬ হাজার অবৈধ অভিবাসীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে জানা গেছে। এমতাবস্থায় ইইউ নেতারা কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের জনসংখ্যা, বেকারত্ব ও জিডিপির হার শরণার্থীর সংখ্যা ইত্যাদি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
