ইউরোপকে হটিয়ে দ্বিতীয় সম্পদশালী অঞ্চল এশিয়া

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৫, ০৯:৫৩
 
সবদিক থেকে ইউরোপের জৌলুস কমছে। একসময়ে বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণকারী এ অঞ্চল এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। সেখানে এখন শিল্প উত্পাদন কমছে, বাড়ছে বেকার সমস্যা। অভিন্ন মুদ্রা ইউরোর মূল্যমানও পড়ে যাচ্ছে। এক বছর আগেও সম্পদের দিক থেকে এশিয়া অঞ্চলের ওপরে ছিলো ইউরোপের অবস্থান। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো ইউরোপকে হটিয়ে পৃথিবীর দ্বিতীয় সম্পদশালী অঞ্চল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে এশিয়া। তবে বরাবরের মতো এক্ষেত্রে শীর্ষ স্থানটি দখল করে আছে উত্তর আমেরিকা অঞ্চল। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (বিসিজি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

 

IMG0
 

বিসিজি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, চীন এবং ভারতে সম্পদশালী লোকের সংখ্যা গতবছর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে (জাপান বাদে) গতবছর অর্থাত্ ২০১৪ সালে ব্যক্তি খাতে সম্পদের পরিমাণ ছিলো ৪৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসময় উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে ব্যক্তি খাতে সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিসিজির মতে, এশিয়া অঞ্চল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে মনে করা হচ্ছে ২০১৬ সালের মধ্যে অঞ্চলটি উত্তর আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া ২০১৯ সালের মধ্যে এশিয়া অঞ্চল বিশ্বের মোট সম্পদের ৩৪ শতাংশ দখলে নেবে বলে বিসিজি জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, পুঁজিবাজার এবং বন্ড মার্কেটের উত্থানের ফলে এশিয়ার সম্পদ বেড়েছে।

বিসিজি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে আরো জানায়, ২০১৯ সালের মধ্যে কোটিপতিরা বিশ্বের অর্ধেক ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক হবেন। ২০১৪ সালে সারাবিশ্বে কোটিপতির সংখ্যা ছিলো এক কোটি ৭০ লাখ। ২০১৩ সালে যা ছিলো দেড় কোটির মতো। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কোটিপতির বাস যুক্তরাষ্ট্রে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট কোটিপতির সংখ্যা ছিলো ৬ হাজার ৯’শ ছয় জন। এর পরের অবস্থান চীনের। ২০১৪ সালে দেশটিতে মোটি কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬’শ ১৩ জনে। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে জাপান এবং যুক্তরাজ্য।