ট্রাম্প-কিম ব্যর্থ বৈঠক

যা ভাবছে প্রতিবেশীরা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ২২:২৭

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈঠকটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠকটি নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক আশা সঞ্চারিত হলেও তা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়াও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ঘোষণা দেয়নি। যাহোক তারপরও চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশগুলো বৈঠকটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

ফেব্রুয়ারির ২৭ ও ২৮ তারিখ হ্যানয় মার্কিন-উত্তর কোরিয়া শীর্ষ বৈঠক হয়। বৈঠক কোনো চুক্তি ও যৌথ সমঝোতা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়। দ্বিতীয় ও শেষ দিন দু’নেতা  তাদের পূর্ব নির্ধারিত মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেননি। বিদায়ের সময় সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তৃতীয় কোনো সম্মেলনের পরিকল্পনা করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার ইয়ংবিয়ন পরমাণু কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন উন কিন্তু ট্রাম্প বলেন: যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য প্রস্তুত নয়।

ট্রাম্প বলেন,‘বিষয়টি ছিল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। তারা চাইছে তাদের ওপর থেকে সব রকম  নিষেধাজ্ঞাটি তুলে নেয়া হোক, এটি আমরা এখন করতে পারি না।’ কোনো কোনো বিশ্লেষক একে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেনের সাক্ষ্য নিয়ে নিজ দেশেই সংকটের মধ্যে ভিয়েতনাম সফর করেন। কোহেনের সাক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অবস্থান নড়বড়ে করে তোলে। দায়িত্বে থাকাকালে আইন ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। এর বাইরেও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চীনের সঙ্গে সংবেদনশীল আলোচনা, ভেনিজুয়েলার সংকট, পাক-ভারত উত্তেজনা এবং মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের তহবিল সংগ্রহে জরুরি অবস্থা ঘোষণা বাতিল করতে কংগ্রেসের প্রচেষ্টার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়াতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। যুক্তরাষ্ট্রে  ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কথিত রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তও প্রায় শেষ করে এনেছেন বিশেষ কাউন্সিলর রবার্ট মুয়েলার। তদন্ত শেষে নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্প ও তার প্রচারণা শিবিরের ভূমিকা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তার অনুপস্থিতিতে কোহেনের শুনানিতে অসন্তুষ্ট হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ বৈঠকে কোনো সমঝোতা না হলেও একে দুই দেশের নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসাবেই দেখা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প ও উন দু’জনই পরস্পরকে উদ্দেশ্য করে ব্যাপক হুমকি ছোঁড়েন। ট্রাম্প উনকে ‘ছোট্ট রকেট ম্যান’ অভিহিত করেন। অন্যদিকে ট্রাম্পকে ‘মানসিক বিকার ও ভীমরতিগ্রস্ত’ বলে বর্ণনা করেন উন। হ্যানয়ে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন- উন একজন ভদ্রলোক এবং তাদের দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক যথেষ্ট জোরাল। সম্মেলনের আগে আশা করা হয়েছিল ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধ আনুষ্ঠানিক অবসানের বিষয়ে একটি রাজনৈতিক ঘোষণা আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই ঘোষণা আসেনি।

বৈঠক কার্যত ব্যর্থ হলেও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো। দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন শুক্রবার বলেন, কিম জং উন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হ্যানয় শীর্ষ বৈঠকে অর্থবহ অগ্রগতি হয়েছে যদিও বৈঠকটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। মুন জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ১ মার্চ আন্দোলনের শততম বার্ষিকী উপলক্ষে এ কথা বলেন। তিনি মনে করেন এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতা বেড়েছে এবং আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া উভয় দেশেরই ১৯১০ থেকে ৪৫ সাল পর্যন্ত জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেকে বলছেন হ্যানয় শীর্ষ বৈঠকে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য এক ব্যর্থতা। কারণ তিনি ওই আলোচনা প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করেছেন।