রাজধানীতে ৬ ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী আটক

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৫, ১৮:২২
 
 
 
ডিবি পুলিশ পরিচয় দানকারী ছয় ব্যক্তিকে আটক করেছে র্যাব-১-এর সদস্যরা। আটককৃতরা হলেন—মো. খায়রুল আলম ওরফে রবিউল (৪২), মো. পান্নু মিয়া (৩৫), মো. সাইফুল ইসলাম নিলয় (২৫), খায়রুল ইসলাম মনির (৩২), শামীমা আক্তার তৃষ্ণা (২৭) ও উম্মে তাসনিন ইভা (১৯)। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর দক্ষিণখান ও উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। দুইটি হ্যান্ডকাপ, ৩টি পুলিশের আইডি কার্ড, ব্ল্যাক মেইলিংয়ের কাজে ব্যবহূত ১টি ক্যামেরা, ভিকটিমের ৪টি আপত্তিকর ছবি, ব্ল্যাক মেইলিংয়ের ২২ হাজার ৪৫০টাকা, ৯টি মোবাইল ফোন ও ১টি লাঠিসহ হাতেনাতে আটক করা হয়।
 
র্যাব-১-এর উপ-অধিনায়ক লে. কমান্ডার কাজী মো. সোয়াইব জানান—আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের পর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আপত্তিকর ছবি তুলে চাঁদা আদায় করে আসছিল। এরই ধারাবাহিতকায় বৃহস্পতিবার রাতে চক্রটি ফায়দাবাদ মজিবর মার্কেট শারমিন টেলিকমের সামনে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করার সময় রাত সাড়ে ১১টায় খায়রুল ওরফে রবিউল এবং তার সহযোগী মো. পান্নুকে আটক করে র্যাব সদস্যরা। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৬ নম্বর সেক্টরের উত্তরা গালর্স হাইস্কুলের সামনে থেকে মো. সাইফুল ইসলাম নিলয়, শামীমা আক্তার তৃষ্ণা ও উম্মে তাসনিন ইভাকে আটক করা হয়।
 
লে. কমান্ডার সোয়াইব আরো জানান—আটককৃতরা র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় এ চক্রের নারী সদস্যরা বিভিন্ন অফিস, বাসস্ট্যান্ড, মার্কেট ও খাবার দোকানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করত। পরে ছলনার মাধ্যমে মোবাইল নম্বর আদান প্রদান করে এবং মোবাইলে কথপোকথনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
 
সম্পর্ক কিছুটা গভীর হলে একপর্যায়ে পূর্ব নির্ধারিত ফ্ল্যাটে ওই ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে যায় এবং তার সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। এ সময় ওই চক্রের পুরুষ সদস্যরা আকস্মিক ওই ঘরে প্রবেশ করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে প্রেমিককে মারধর করে। তারপর ওই ব্যক্তির সাথে ওই নারীর নগ্ন ছবি তুলে তার আত্মীয়-স্বজন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের ভয় দেখিয়ে নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় করতে থাকে।
 
আটক শামীমা আক্তার তৃষ্ণাকে পান্নু মিয়া চাকরির কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে এবং খায়রুল ইসলামের সাথে বিয়ে দিয়ে অপরাধ জগতে প্রবেশ করায়। আটক সাইফুল ইসলাম ও উম্মে তাসনিন ইভা স্বামী-স্ত্রী। একসময় এমএলএম ব্যবসা করলেও পরে তারা অর্থের লোভে এই অপরাধ চক্রের সাথে যুক্ত হয়।