হতাশার কারণেই পুলিশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার অভিযোগ :নাসিম

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৫, ০১:০৩

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা গত পাঁচ জানুয়ারি থেকে টানা ৯২ দিন আন্দোলনের নামে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে অসংখ্য নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে। এটা দেশ-বিদেশের সবাই জানে। অথচ বিএনপি নেত্রী এখন এ দোষ পুলিশের ওপর চাপাচ্ছেন। এটা তার (খালেদা) হতাশার বহিঃপ্রকাশ। একইসঙ্গে এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে খালেদার রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার প্রকাশ পেয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন করে যাচ্ছে বলেই বিএনপি নেত্রীর তাদের ওপর এত বেশি আক্রোশ।

গতকাল রবিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়াকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০১৯ সালে দেশে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে আমরা আইনগত বাধা না থাকলে কোন দল কিংবা ব্যক্তিকে নির্বাচনের বাহিরে রাখতে চাই না। তাই আপনি উদ্ভট আবিষ্কার বাদ দিয়ে এবং আইনি জটিলতা মোকাবেলা করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনেও জনগণ শেখ হাসিনাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। কারণ শেখ হাসিনার সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে যে কোন ঘটনার বিচার হচ্ছে। কোন অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে দেয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ইফতারের আগে একজন নেত্রী কি ভাষায় বক্তব্য দেন। আমাদের ধর্মে আছে ইফতার মুখের সামনে রেখে গিবত করতে হয় না। বিএনপিকে গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছি। যা বিশ্ব ব্যাংক বলেছে। কিন্তু বিএনপি দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তা স্বীকার করতে চায় না। ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হবে। এ জন্য তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

 
আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামিক ঐক্যজোটের সভাপতি মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।
 
‘শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন’
 
এদিকে অফিসার্স ক্লাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। বিএনপি জোটের শত বাধা অতিক্রম করে তিনি দেশকে এগিয়ে যাচ্ছেন। যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। স্বীকৃতি হিসেবে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পাচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হবে। ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলানসহ বিএনপি ও স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
 
চিকিত্সার নামে প্রতারণার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে’
 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে বিকল্প চিকিত্সার নামে প্রতারণার বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আধুনিক চিকিত্সায় যেমন ভুয়া চিকিত্সক ও ক্লিনিক রয়েছে, তেমনি হোমিওপ্যাথি এবং ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায়ও বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে প্রতারিত করা হয়। সনাতনী চিকিত্সার উপর মানুষের বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রাখতে এই অপচিকিত্সকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সহায়তা দেয়ার জন্য মন্ত্রী বিকল্প চিকিত্সা পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল সচিবালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড এবং বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বোর্ড এর সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। সভায় রেলমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বোর্ডের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব সৈয়দ মন্জুুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড-এর চেয়ারম্যান ডা. দিলীপ কুমার রায়সহ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ এবং ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।