আগামী বাজেটে গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ সহায়ক রাজস্ব কাঠামো

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ২০:৫৭

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। বিনিয়োগ বিশেষত বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী বাজেটে বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বেজা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টিই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রাজস্ব নীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত গতি না আসার পেছনে কঠোর ভ্যাট-ট্যাক্স ও শুল্ক কাঠামো অন্যতম দায়ী। এবার রাজস্ব কাঠামোকে বিনিয়োগবান্ধব করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকার গঠিত একটি কমিটি এখন কাজ করছে। আগামী বাজেট  প্রণয়নের আগে এ কমিটি বিনিয়োগ সহায়ক রাজস্ব নীতির বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী বাজেটে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রাজস্ব কাঠামোতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যায়, এ কমিটি তা সুপারিশ করবে। ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন টিম নামে ওই কমিটি ইতোমধ্যে  বেশকিছু বৈঠকে এ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনায় এসেছে। আগামী জুনে সরকার পরবর্তী (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে। টানা ১০ বছরের মেয়াদ শেষে তৃতীয় মেয়াদে আরো পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। গত জানুয়ারিতে গঠিত সরকারের জন্য এটি হবে প্রথম বাজেট। এছাড়া অর্থমন্ত্রী হিসেবে এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফলে আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়নের গতিপথকে সামনে রেখে এবারের বাজেটে একটি রূপরেখা ঘোষণা দিতে পারেন তিনি, যাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিওটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও প্রাধান্য পেতে পারে।

রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগ থেকে আগামী বাজেটে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রস্তাব ও মতামত চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আমদানি পর্যায়ে শুল্ক যৌক্তিকীকরণ, বাণিজ্য উদারীকরণ এবং পদ্ধতিগত জটিলতা  নিরসনের বিষয়টি এনবিআর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এবার এর সঙ্গে ডব্লিওটিও’র বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি বাস্তবায়নের আবশ্যকতার কারণে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য শুল্ক-কর বিষয়ক আইন, বিধিমালা, আদেশ, ব্যাখ্যাপত্র প্রভৃতির সংস্কার কিংবা পরিবর্তন, শুল্ক-কর হার যৌক্তিকীকরণ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ মতামত চাওয়া হয় শুল্ক বিভাগ থেকে। এর আগে একইভাবে ভ্যাট বিভাগ থেকেই আলাদা প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ বিষয়টি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সমিতি ও চেম্বারকে জানানো হয়েছে।