গত এক দশকের মধ্যে গেল অর্থ বছরে (২০১৪-১৫) রফতানিতে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ বিলিয়ন ডলার রফতানি কম হয়েছে। আগের অর্থ বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র তিন দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত এক দশকে এত কম প্রবৃদ্ধি হয়নি। তাই চলতি অর্থ বছরের (২০১৫-১৬) জন্য রফতানি লক্ষ্যমাত্রা কমানো হচ্ছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া অর্থ বছরে তিন হাজার ১১৯ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৩২০ কোটি ডলার। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ছয় দশমিক ০৩ শতাংশ বা ২০০ কোটি ১৫ লাখ ডলার কম রফতানি হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া বিষয়ে ইপিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট সুভাশীষ বসু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দায় পোশাকের মূল্য কমে যাওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এছাড়া ইউরো ও রুবলের দরপতনও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার প্রভাবও এজন্য দায়ী। চলতি অর্থ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গেল বছরের রফতানি প্রবৃদ্ধির উপর ভিত্তি করে নতুন বছরের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি’।
জানা গেছে, গত অর্থ বছরের চেয়ে চার শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এবার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। তাতে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে তিন হাজার ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার। তা হলে আগের অর্থ বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭০ কোটি ডলার কম।
লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানান, বড় লক্ষ্যমাত্রা ধরে তা অর্জিত না হলে কর্মকর্তাদের অদূরদর্শিতা ও ব্যর্থতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রা ছোট ধরা হলেও যদি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় বেশি হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রশংসিত হয় এবং সরকার বিষয়টা নিয়ে গর্ব করতে পারে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত অর্থ বছরে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর আগে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল চার দশমিক ১১ শতাংশ। গত ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০১০-১১ অর্থ বছরে। ওই অর্থ বছরে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থ বছরে পাঁচ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, তার আগের অর্থ বছরে ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে ১৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ২০০৫-০৬ অর্থ বছরের ২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল। এ দশ বছরের আগের তিন বছরের রফতানি প্রবৃদ্ধিও ভাল ছিল। অবশ্য ২০০১-০২ অর্থ বছরে রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ছিল।
গত অর্থ বছরের রফতানি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বরাবরের মত সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে নিটওয়্যার ও ওভেন খাত। এ দুই খাতের রফতানিতে সামান্য প্রবৃদ্ধি হলেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। ওভেন খাতে এক হাজার ৩৬৮ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে এক হাজার ৩০৬ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে পাঁচ শতাংশ।
নিটওয়্যার খাতে এক হাজার ৩২১ কোটি ডলারের বিপরীতে আয় হয়েছে এক হাজার ২৪২ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তিন দশমিক ১৩ শতাংশ। এর বাইরে রফতানি পণ্যে যেসব পণ্যের ভূমিকা বেশি থাকে সেগুলোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় সার্বিক রফতানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে।
