স্পোর্টস রিপোর্টার
দর্শকদের জন্য গ্যালারি উন্মুক্ত ছিল টুর্নামেন্ট জুড়েই। বিনা টিকিটেও গ্রুপ পর্ব, সেমিফাইনালে দর্শকদের উপস্থিতি খুব উল্লেখ করার মতো ছিল না। ঠিক দর্শক ঢল না হলেও গতকাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-২০র ফাইনালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন কয়েক হাজার ক্রিকেটপ্রেমী।
দেশীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ব্যাটে-বলে বেশ জমজমাট লড়াই হয়েছে। এবার ফাইনালে বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি যেন পূর্ণতা পাইয়ে দিল প্রিমিয়ার লিগ টি-২০ টুর্নামেন্টকে।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে টি-২০ টুর্নামেন্ট প্রথমবার হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেবার ফাইনালে মোহামেডানের হয়ে ৫০ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন ইমতিয়াজ হোসেন তান্না। ১৩ বছর পর সেই তান্নাই গতকাল ফাইনালে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন। তার হাফ সেঞ্চুরিতেই প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের সামনে চ্যালেঞ্জিং একটা টার্গেট ছুড়ে দিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। গতকাল সন্ধ্যায় মিরপুর স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে সাত উইকেটে ১৫৭ রান তুলেছে শেখ জামাল।
রান তাড়া করতে নেমে ভালো সূচনা পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বরও। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ আরাফাতের ব্যাটে ছয় ওভারে ৩৮ রান তোলে ক্লাবটি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১০ ওভারে এক উইকেটে ৬৪ রান সংগ্রহ করেছে দোলেশ্বর।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ভালো শুরুই পেয়েছিল শেখ জামাল। ইমতিয়াজ হোসেন তান্না ও ফারদিন হোসেন ৬২ রানের জুটি গড়েন। মানিক খানের বলে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ফারদিন। তিনি ১৮ রান করেন। এরপর হাসানুজ্জামান (৪), নাসির হোসেন (৫) দ্রুত ফিরলে ৭৬ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে শেখ জামাল। একপ্রান্ত আগলে ৪০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ইমতিয়াজ হোসেন তান্না। তবে হাফ সেঞ্চুরি করার পর বেশিক্ষণ উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি ইমতিয়াজ হোসেন তান্না। ৪৪ বলে ৫৬ রানের (৪ চার, ২ ছয়) ইনিংস খেলে আরাফাত সানির বলে বোল্ড হন তিনি।
সেমিফাইনালে ঝড়ো ব্যাটিং করা জিয়াউর রহমান এদিন ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যাট হাতে দলের ভরসা হতে পারেননি। ২ রান করে ফরহাদ রেজার বলে ক্যাচ তুলে ফিরেন জিয়া। ষষ্ঠ উইকেটে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক নূরুল হাসান সোহান ও তানভির হায়দার। তাদের ত্রিশোর্ধ্ব দুইটি ইনিংসেই শেখ জামালের স্কোরটা দেড়শ ছাড়িয়েছে। ৪৯ রানের জুটি গড়েন তারা। ফরহাদ রেজার করা ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে সাজঘরে ফিরেন নূরুল হাসান সোহান ও তানভির হায়দার। ১৫ বলে ৩১ রানের (৪ চার, ১ ছয়) ক্যামিও উপহার দেন তানভির হায়দার। নূরুল হাসান সোহান ২৭ বলে তিনটি চারে ৩৩ রান করেন। ইলিয়াস সানি অপরাজিত ৪ রান করেন। প্রাইম দোলেশ্বরের পক্ষে ফরহাদ রেজা ৩২ রানে তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া সৈকত আলী, মানিক খান, এনামুল জুনিয়র ও আরাফাত সানি একটি করে উইকেট নেন।
