বিতর্কের তিন হিমু

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৫, ০২:৪৪
খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক নানা সফলতার পর অবশেষে তারা তিন জন নিয়ে এলো বিতর্কের মঞ্চে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। শ্রাবণ দিনের মেঘ কাটিয়ে ধরা দিল সাফল্যের আগুনের পরশমণি। বলছি হুমায়ূন আহমেদ স্মারক ৩য় আন্তঃক্লাব বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানারআপ দল স্টামফোর্ড ডিবেট ফোরাম (এসডিএফ) এর কথা। এই প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মোহাম্মাদ মহসিন হল ডিবেটিং ক্লাব। অনেক দিনের প্রচেষ্টা আর খুব মজবুত দলীয় সমন্বয় এই সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করেন রানারআপ দলের সদস্য ও স্টামফোর্ড ডিবেট ফোরাম (এসডিএফ) এর সভাপতি আইন বিভাগের ছাত্র আমিমুল হাসান। সাফল্য পাবার জন্য বিতর্ক অনুশীলনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত তথ্য আর যুক্তির সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিলেন বিতর্ক দলের অন্যতম সদস্য মতিঝিল গভঃ বয়েজ স্কুল বিতর্ক ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিকতার ছাত্র মোঃ মোহাইমিনুল ইসলাম সোহান। প্রায় ১০ বছর ধরে বিতর্ক করে আসা এই তার্কিকের মতে, অভিজ্ঞতা অনেক কঠিন বিষয়কেও সহজ করে দেয়। যুক্তিবোধের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করাটা তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দলের আরেক সদস্য ইংরেজি বিভাগে পড়ুয়া রাকিব জোহার কাছে উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা আর দলীয় সমঝোতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেও স্কুল জীবন থেকে বিতর্ক চর্চার সাথে জড়িত। ঢাকা রেসিডেন্সশিয়াল মডেল কলেজের সাবেক এই বিতর্ক যোদ্ধার মতে, বিতর্ক চর্চা শুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ফাইনাল বিতর্কসহ প্রতিটি বিতর্কের সেরা বক্তা নির্বাচিত হন স্টামফোর্ড ডিবেট ফোরাম (এসডিএফ) এর আমিমুল হাসান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বিতর্ক চর্চা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বিতর্ক থেকে প্রাপ্তিটা শুধু কিছু পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তার মতে, বিতর্ক প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর কর্ম জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিতর্কে পাওয়া আত্মবিশ্বাস, নিজেকে প্রকাশ করার শিক্ষা, মানুষকে বোঝানোর ক্ষমতা সর্বোপরি যে কোন বিষয় নিয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারার দক্ষতা কর্ম জীবনেও অনেক কাজে লাগে। তার প্রত্যাশা বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে মননশীল, যুক্তিবাদি মানুষ গড়ে উঠবে। ফাইনাল বিতর্কে অন্য দলটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদদীন হল। চূড়ান্ত পর্বের এই বিতর্কের বিষয় ছিল- ‘মননশীল পাঠকের অভাবেই নন্দিত নরকে আর সৃষ্টি হচ্ছে না’। তারা তিনজনেই বলেন যে, শুদ্ধ বিতর্ক চর্চা আমাদের সমাজ ও দেশ গঠনেও অনেক বড় ভূমিকা রাখছে। যারা বিতর্ক করে তারা খুব ছোট বয়স থেকেই সমাজ, দেশ, অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি, শিল্প-সাহিত্য অনেক কিছু নিয়ে চিন্তা করে। ফলে সে একজন পরিপূর্ণ বিশ্ব নাগরিক হয়ে গড়ে উঠে। বর্তমান সময়ের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ পৃথিবীতে নিজের দেশকে এগিয়ে নেবার জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।