জীবননগরে ঘুমন্ত সাংবাদিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৫, ০১:০৫

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ঘুমন্ত সাংবাদিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এসময় ঘাতকের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন তার পিতা আবুল খায়ের ওরফে বাচ্চু মোল্লা (৬৫)। নিহত সাংবাদিক আবু সায়েম দৈনিক সমকালের জীবননগর প্রতিনিধি ও উপজেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

 
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঘাতক রাজীব সরকারকে (৩২) উপজেলার মনোহরপুর থেকে গ্রেফতার করে।
 
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, সাংবাদিক আবু সায়েম রাতে উপজেলার পিয়ারাতলাস্থ বাড়ির দ্বিতীয়তলায় একা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘাতক রাজীব ছুরি হাতে তার ঘরে প্রবেশ করে এবং ঘুমন্ত অবস্থায় তার বুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় রাতেই তাকে নেয়া হয় যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে ভোরের দিকে তাকে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল বুধবার বিকালে সেখানে তার বুকে জরুরি অপারেশনের পর আইসিইউতে রাখা হয়। বিকাল আনুমানিক চারটার দিকে সাংবাদিক আবু সায়েম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। গ্রেফতারকৃত ঘাতক রাজীব জেলার দামুড়হুদা উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে।
 

পারিবারিক সূত্র আরো জানায়, ঘাতক রাজীব তিন দিন ধরে সায়েমদের পরিত্যক্ত একটি ঘরে অবস্থান করছিল। সাংবাদিক আবু সায়েমের পিতা ফকিরী ধারার মানুষ। ঘাতক রাজীব ফকিরী বেশ ধরে তার নিকট এসে অবস্থান করছিলো। এ দিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। পরে মৃত্যুর খবর আসার পর বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল, ইউএনও নুরুল হাফিজ ও ওসি হুমায়ন কবীর ঘটনাস্থলে এসে গ্রেফতারকৃত ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিলে সাংবাদিকরা তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে আধাঘন্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।