মেয়ের বাবার বিরুদ্ধে প্রেমিককে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৫, ২০:১০
গাজীপুরে মেয়ের প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে এনে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর প্রেমিকার বাবা পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর হাতিমারা এলাকার হামিদুল ইসলামের মেয়ের (১৩) সাথে একই এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে তারেক রহমানের (১৬) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারেক হাতিমারা স্কুলের দশম এবং মেয়েটি একই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। গত এক মাস আগে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা গত ১০ জুন জয়দেবপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তারেকের বড় ভাই রাসেল রহমানকে (২২) গ্রেফতার করে। তারেক পরিবারের সহায়তায় ছাত্রীকে বাবার কাছে পৌঁছে দেয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আপোষ মীমাংসার প্রক্রিয়া চলাবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রীর বাবা হামিদুল তার বাড়িতে তারেককে ডেকে নেন। এ সময় ছাত্রী ও তার মা শিরিন আক্তারকে পাশের একটি রুমে আটকে রেখে হামিদুল সহযোগীদের নিয়ে তারেককে মারধর করেন। এক পর্যায়ে তারেকের মৃত্যু হয়। পরে ফোন করে তারেকের পরিবারের সদস্যদের তিনি জানান, তার ছেলে রাস্তার পাশে পড়ে আছে।
বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে স্বজনরা তারেককে উদ্ধার করে গাজীপুরে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
 
জয়দেবপুর থানার চক্রবর্তী ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন জানান, তারেককে বস্তায় পেঁচিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবার সহযোগী মনিনুল ইসলাম (৩২) ও মো. ইব্রাহীমকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্রী তার বাবা সহযোগীদের নিয়ে প্রেমিক তারেককে রড দিয়ে পেটায় বলে স্বীকার করেছে। পরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে বাইরে রেখে আসে বলে জানায়।