ঈদের আগে পুলিশের ব্যাপক চাঁদাবাজি

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৫, ০১:৩০

ঈদের আগে ব্যাপকভাবে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ। কোথাও কোথাও পুুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার বা সাসপেন্ড করা হচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ঝুট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন রাজধানীর কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। গতকালই তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহূত মাইক্রোবাসের চালক লুত্ফর রহমানকেও চার দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। এর আগে শনিবার রাতে শাহআলী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন ও সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) ইমরুল হোসেনকে প্রত্যাহার কর হয়। খাগড়াছড়িতে গতকাল তিন পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

 
ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন গতকাল রবিবার কাফরুল থানার এসআই রফিকুল ইসলামের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিবির এসআই টিএমএ মজিব জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এর আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শনিবার দুপুরে গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম ব্যাংক থেকে ১৯ লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন। পথে এসআই রফিকুল ও তার সঙ্গে থাকা মাইক্রোবাসের চালক লুত্ফর রহমান ব্যবসায়ী নাজমুলের কাছে থেকে ডিবি পরিচয় দিয়ে ১৯ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ব্যবসায়ীর চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে এসআই রফিকুল তার পরিচয়পত্র (কাফরুল থানা পুলিশ) মাইক্রোবাসে রেখেই পালিয়ে যায়। ওই পরিচয়পত্রের সূত্রধরে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, রাজধানীর কোথাও চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল আজিমপুর গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বেলা ১২টায় দুস্থদের মধ্যে ঈদবস্ত্র বিতরণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশ, পরিবহনের নেতাকর্মীসহ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে  তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের তিন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরা হচ্ছে- জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চ ( ডিএসবি) সদস্য ফিরোজুল ইসলাম, মো. মনিরুজ্জামান ও ডিবি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান। পুলিশ সুপার মজিদ আলী জানান, প্রাথমিক ভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।
 
জানা গেছে, গত বুধবার রাত আনুমানিক এগারটার সময় পুলিশের এই তিন সদস্য ডিবি পরিচয়ে জেলা শহরের গঞ্জপাড়া এলাকায় মাংপ্রু মারমা নামের এক উপজাতীয় গৃহবধূর বাড়িতে মাদকদ্রব্য বিক্রি করা হয় এই অভিযোগে তার স্বামী ক্যাচিং মারমাকে হাতকড়া পরিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ২৫ হাজার টাকা আদায় করার পর তার স্বামীকে ছেড়ে দেয়।
 

এর আগে শনিবার রাতে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ থাকায় রাজধানীর শাহআলী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন ও সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) ইমরুল হোসেনকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ডিএমপি সদর দফতরে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ডিএমপি সদর দফতর থেকে তাদের ক্লোজ করা হয়।