‘চাইর কূলে (চারদিকে) পানি আর পানি। কই যামু আর কি খামু হেইয়া ই তো কইতে পারি না। মোগো আবার ঈদ!’ কথাগুলো টানা বৃষ্টি ও অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত বলেশ্বর নদের তীরবর্তী ভাঙ্গন কবলিত চাড়াখালী গুচ্ছগ্রামের বিধবা রিনা বেগমের (৪২)।
জিয়ানগর উপজেলার বলেশ্বর নদের তীরবর্তী চাড়াখালী গুচ্ছগ্রামের ভ্যান চালক ছেলে শাহিনের (২০) সাথে বসবাস করছেন রিনা। ছেলের উপার্জনেই কোনোভাবে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন তারা। তাই ঈদ বস্ত্র কেনার মতো সামর্থও নেই তাদের।
IMG0
ভান্ডারিয়ার চরখালী গ্রামের ফজলু মৃধার সাথে কঁচা নদীরে তীরে ঘর বাধেন রিনা বেগম। স্বামী ফজলু মৃধা মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর। স্বামীর সঙ্গে বসত ঘরও গেছে নদীর কড়াল গ্রাসে।
রিনা বেগমের মতো কঁচা ও বলেশ্বর নদের তীরবর্তী উপজেলার প্রায় দুই সহস্রাধিক পরিবার ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার বালিপাড়ার সাউথখালী চর, বালিপাড়া খোল পটুয়া আবাসন কেন্দ্র, পাড়েরহাট আবাসন কেন্দ্র, উমেদপুর, টগড়া, টেংরাখালী, চরবলেশ্বর, সাউথখালী, বালিপাড়া, কলারন, চন্ডিপুর, কালাইয়া, ইন্দুরকানী, চাড়াখালী, সেউতিবাড়িয়া গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষেরা সব থেকে বেশী বিপাকে পড়েছেন। ঈদের পূর্ব মুহূর্তে টানা বৃষ্টি ও অতিরিক্ত জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে পানি বন্দি হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ায় ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত এসব পরিবার।
এ বিষয়ে উপজেলার বালিপাড়ার দিন মজুর ছালাম (৪৫) বলেন, দেওইতে (বৃষ্টিতে) কোনো কাম কাইজ নাই। হেইর লইগ্গা তিনডা মাইয়া পোলারে ঈদে কোনো জামা কাপুর দেতে পারি নাই।
আবার চাড়াখালী গ্রামের চার সন্তানের জননী নুপুর বেগম (৩২) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পোলার বাপে সাগরে গেছে কোনো মাছ পায় নাই। হেই জিন্নে মাইয়া পোলারে কোনো কিছু কিন্না দেতে পারি নাই। ঈদের দিন পোলা পানরে এট্টু সেমাই নাস্তাও খাওয়াইতে পারমু না। মোর মাইয়ায় কয় ঈদের দিন নানা গো ঘর দিয়া ইট্টু সেমাই খাইয়া আইয়া মোরা সবাই কতডু বিষ খাইয়া মইররা থাকমু আনে। মোগো তোর আর ঈদ নাই।’
এ বিষয়ে পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল কবির স্বপন জানান, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে জলাবন্ধতার কারণে ঈদ আনন্দ অনেকটা ম্লান হতে যাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের পরিমান অপ্রতুল হওয়ায় আমার সবাইকে সহযোগিতা করতে পারি নাই।
