ঈদের আমেজে ফাঁকা ব্যাংকপাড়া

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৫, ২০:২৫
 
ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি শেষে সোমবার ছিল প্রথম কর্মদিবস। এ দিন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকলেও লেনদেন ছিল না বললেই চলে। আর গ্রাহকদের চাপ কম থাকায় কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় আর ঈদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেই দিন পার করেছেন কর্মকর্তা।
 
ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিও ছিল একেবারেই কম। ব্যাংক পাড়া খ্যাত মতিঝিলে বিভিন্ন শাখায় এমন চিত্রই দেখা গেছে। এদিকে শেয়ার বাজার খুলছে মঙ্গলবার।
 
দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংকের সব শাখাই সোমবার খোলা ছিল। রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংকগুলোতে সকাল ১০টায় অধিকাংশ বিভাগের কর্মকর্তাদের টেবিল চেয়ার ছিল প্রায় ফাঁকা। গ্রাহকদের উপস্থিতিও ছিল হাতেগোনা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মতোই একই চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকেও।
 
এ দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকেও লেনদেন হয়েছে খুব কম। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অফিসার (মহাব্যবস্থাপক) শহিদুর রহমান বলেন, প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে টাকার চাহিদা না থাকায় তারাও আসেনি।
 
ব্যাংক পাড়ায় এবারের ঈদের ছুটি শুরু হয় শুক্রবার, আর শেষ হয়েছে রবিবার। সরকারি নিয়মিত ছুটির সঙ্গে মাত্র একদিনের ছুটি পেয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে ঈদের ছুটির সঙ্গে সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত তিনদিনের ছুটি নিয়েছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারদিন ছুটি নিয়েছেন। আর এভাবে ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ায় ব্যাংক পাড়া এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, চলতি মাসের ২৬ জুলাই থেকে আবার পুরোদমে শুরু হবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও লেনদেন। দেখা যাবে সেই চিরচেনা চিত্র।
 
ব্যাংকাররা বলছেন, রবিবার ব্যাংকে লেনদেন কম হলেও অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথে টাকা ভরানোসহ ব্যাংকের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলেছে স্বাভাবিক নিয়মেই। এদিকে বড় গ্রাহকরে সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক মজবুত করতে প্রধান কার্যালয়ে ছোটখাটো পুনর্মিলনীর আয়োজন করে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক।
 
ঈদের পরের ব্যাংকের লেনদেন বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি একটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের সব শাখাই সোমবার খোলা ছিল। কিন্তু লেনদেন তেমন একটা হয়নি। যে কারণে একটু আগেভাগেই সব শাখা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারাও যার যার মতো ঘরে ফিরে গেছেন। তবে বড় শাখাগুলোর তুলনায় ছোট শাখাগুলোতে বেশি লেনদেন হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
 
প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে টাকা না থাকা সহ নানা রকম ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রাহকদের। তাই এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখাতে ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যাংকগুলোকে আগেই সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে অন্যান্য বছরের মতো এবার ঈদের ছুটিতে নগদ টাকা নিয়ে খুব একটা বিপাকে পড়তে দেখা যায়নি গ্রাহকদের।
 
এদিকে ঈদ উপলক্ষে ৬দিনের বন্ধ শেষে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শুরু হবে পুঁজিবাজারের লেনদেন। গত ১৫ জুলাই থেকে সোমবার পর্যন্ত লেনদেন বন্ধ ছিল ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের।