সাভার উপশহরের চারপাশে পরিবেশ দূষণ চরমে

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ০০:১১

সাভার উপশহরসহ এর চারপাশ আজ চরম দূষণের কবলে। কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যসহ সব ধরণের দূষণ সাভার শহরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। এখানে যেন বিশুদ্ধ বাতাস নেই। নদীর পানিতে যেন বিষ। ফলে এ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর সার্বিক স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশ আজ বিপন্ন। পরিবেশবিদরা বলেন, পরিবেশ আইনের হালনাগাদ করে এর সঠিক প্রয়োগ ও দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তির বিধান না করলে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সাভার শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো থেকে নির্গত বর্জ্যের কারণে নদী জলাশয়গুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। ফলে ৫০ লাখ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এ জনপদের অধিকাংশ মানুষ দূষণজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। এছাড়াও ইট ভাটা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া এলাকার পরিবেশ বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন দূষণ প্রক্রিয়া অব্যাহতভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। সেই সাথে জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়বে।

উপজেলার শতাধিক টেক্সটাইল মিল ও ডাইং কারখানা থেকে রাসায়নিক-মিশ্রিত গাঢ় কালো ও বেগুনি রঙের দূষিত তরল বর্জ্য সরাসরি নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। আর সেই বিষ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। এর প্রভাবে কৃষি উত্পাদন হ্রাস পাচ্ছে। ফলদ বৃক্ষের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ডিইপিজেডের পাশ দিয়ে বহমান ধলাই বিলের পানি মিল কারখানার বর্জ্যে বিষাক্ত হয়ে পড়ায় বিলের মাছ মরে যাচ্ছে।  সাভারের বিভিন্ন খাল ও নদীর মাছ রান্না করলে তাতে কেরোসিনের গন্ধ পাওয়া যায়।

রাসায়নিক বর্জ্যে নদী ও খালবিলের পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় সেই পানিতে গোসল করলে নানা ধরনের চর্মরোগ হচ্ছে। শিল্প বর্জ্যে দূষিত তুরাগ ও বংশী নদীতে মাছ উত্পাদন একেবারে কমে গেছে। বর্জ্যমিশ্রিত পানি দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়ার কারণে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলন আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোহাম্মদ রফিক বলেন, যানবাহন থেকে শুরু করে ইট ভাটার কালো ধোঁয়া শিশুদের মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পানি বিশেষজ্ঞ  ড. আতাউর রহমান বলেন, কল-কারখানার বর্জ্য দূষণ অব্যাহত থাকলে রাজধানীসহ আশপাশের কয়েকটি অঞ্চল আগামী কয়েক বছরে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।